ইরানে ইসরায়েলের সর্বশেষ হামলার সমাপ্তি ঘোষণা করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ)। শনিবার (২৬ অক্টোবর) ভোরে শুরু হওয়া এই হামলা মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সমাপ্ত করার ঘোষণা দেয় আইডিএফ। ইসরায়েলের কাছ থেকে এমন স্বল্প পরিসরের হামলা কি আদৌ প্রতিশোধমূলক ছিল, নাকি এটি মূল হামলার একটি ট্রেইলার মাত্র—এ নিয়ে কিছুটা দ্বিধায় রয়েছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি অংশ। কাতারি সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য ওঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছেন, নেতানিয়াহুর স্বার্থে, ইরানের ওপর একটি প্রাথমিক হামলা করার চেয়ে আরও বেশি কিছু করা যেতে পারে।
মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক হাসান মেইমনেহি ইসরায়েলের হামলার মাত্রা ও পরিসর নিয়ে বেশ অবাকই হয়েছেন। এটিকেই সেই প্রতিশোধমূলক হামলা হিসেবে মানতে তার মন সায় দিচ্ছে না।
আল-জাজিরাকে তিনি বলেছেন, যদিও ইরানের ওপর ইসরায়েলের আক্রমণটি প্রত্যাশিতই ছিল। তবে হামলার মাত্রা এবং ভবিষ্যতে আরও কী ঘটতে যাচ্ছে তা এখন দেখার বিষয়।
মেইমনেহ বলেছেন, ‘আমি মনে করি,এটিই ছিল সেই হামলা—এ কথাটি এখনই বলা খুব তাড়াতাড়ি হয়ে যাবে। আমরা হয়তো আরও অনেক কিছু দেখতে যাচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘স্পষ্টভাবেই, আরও কিছু ঘটতে যাচ্ছে কি-না তা একান্তই নেতানিয়াহুর মর্জি। শুধু ভাবমূর্তির জন্যই নয়, বরং এটি এখন তার জন্য একটি সুযোগ। কেননা, এই অঞ্চলে আমেরিকার প্রশাসন আক্ষরিকভাবেই আজ সবচেয়ে দুর্বল।’
মেইমনেহ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘গত এক বছরে শক্তির কোনও লক্ষণই দেখাতে পারেনি এবং নেতানিয়াহু যে ছক ধরে এগোতে চেয়েছিলেন, ঠিক সেভাবেই তা অনুসরণ করেছেন।’
মেইমনেহ আরও বলেন, ‘তবে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে যদি সত্যিই টেনে আনার উদ্দেশ্য থাকতো, তবে এটি ছিল সেই মুহূর্ত। এমনকিছুর জন্য এটিই ছিল সেই মুহূর্ত। তাই, এটিকেই যদি সেই আক্রমণ বলা হয়, তবে সত্যিই আমি বেশ অবাক হব।’