নেতানিয়াহুর আইনি সংকট: গাজা ও লেবানন যুদ্ধে কেমন প্রভাব ফেলবে?

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দেশীয় ও আন্তর্জাতিক আইনি চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছেন। বিশেষজ্ঞ ও কর্মকর্তাদের মতে, এসব সংকট তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং গাজা ও লেবাননে চলমান যুদ্ধের গতিপথে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) নেতানিয়াহু এবং তার সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। গাজায় ১৩ মাস ধরে চলমান সংঘর্ষে যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

নেতানিয়াহু আইসিসির এই সিদ্ধান্তকে ‘ইহুদিবিদ্বেষী’ বলে অভিহিত করেছেন এবং দাবি করেছেন, তিনি বা গ্যালান্ট কখনোই গাজার সাধারণ মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করেননি বা তাদের অভুক্ত রাখার কোনও উদ্দেশ্য ছিল না।

হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ ইয়োনাতান ফ্রিম্যান বলেন, আইসিসির এই সিদ্ধান্ত ইসরায়েলি জনগণের মধ্যে নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন আরও বাড়াবে। ইসরায়েলিরা মনে করে, বিশ্বের অন্যায় সমালোচনার মুখে তাদের নেতার পাশে থাকা প্রয়োজন।

আইসিসির এই সিদ্ধান্তের ফলে লেবাননের হিজবুল্লাহর সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি কিংবা গাজায় হামাসের হাতে আটক ব্যক্তিদের মুক্তি নিয়ে আলোচনার পথ কঠিন হয়ে পড়েছে।

ইসরায়েলের নিউ ইয়র্কের কনসাল জেনারেল ওফির আকুনিস বলেছেন, এই সিদ্ধান্তের কারণে লেবানন এবং গাজা বিষয়ক আলোচনায় বড় ধরনের বাধা তৈরি হয়েছে। হিজবুল্লাহ ও হামাস এখন তাদের দাবি আরও বাড়াতে পারে।

আইসিসির পরোয়ানা জারির মধ্যেই নেতানিয়াহুকে দীর্ঘদিন ধরে তাড়া করে বেড়ানো দুর্নীতির মামলার শুনানি শুরু হতে যাচ্ছে। ঘুষ, বিশ্বাস ভঙ্গ ও প্রতারণার অভিযোগে অভিযুক্ত এই মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যেতে পারে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আকস্মিক হামলায় ইসরায়েলের ১ হাজার ২০০ জন নিহত হওয়ার পর নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তা তলানিতে পৌঁছায়। তবে আইসিসির সিদ্ধান্ত তার প্রতি সমর্থন পুনরুদ্ধার করেছে।
ইসরায়েলের প্রভাবশালী দৈনিক ইয়েদিয়থ আহরনথ বলেছে, নেতানিয়াহু স্বাধীন তদন্ত এড়িয়ে আইসিসির মতো ঝুঁকি নেওয়াই বেছে নিয়েছেন।

আইসিসির পরোয়ানার ফলে নেতানিয়াহু বিশ্বের ১২৪টি সদস্য রাষ্ট্রে গ্রেফতার হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছেন। যদিও যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির সদস্য নয়।

ইসরায়েল ডেমোক্র্যাসি ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো ইউভাল শানি বলেন, এই পরোয়ানার ফলে নেতানিয়াহুর সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে বিশ্ব নেতারা সতর্ক হবেন। ফলে ইসরায়েল আরও আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতার মুখোমুখি হতে পারে।

নেতানিয়াহু যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক চাপে টিকে থাকার চেষ্টা করছেন। তবে, আইসিসির পরোয়ানা এবং অভ্যন্তরীণ মামলা তার ভবিষ্যৎকে আরও জটিল করে তুলেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকার এবং যুদ্ধনীতি সমালোচনার মুখে পড়বে। তবে ইসরায়েলের জনগণের সমর্থন তাকে আপাতত বাঁচিয়ে রাখতে পারে।