যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন: ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর একটি মাঝারি পাল্লার রকেট সংরক্ষণাগারে হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) উভয় পক্ষ যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

ইসরায়েল জানায়, বৃহস্পতিবার তারা দক্ষিণ অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে যানবাহন নিয়ে প্রবেশকারী কয়েকজন ‘সন্দেহভাজনের’ দিকে গুলি চালায়। ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে বুধবার কার্যকর হওয়া চুক্তির এটিই প্রথম লঙ্ঘন।

অন্যদিকে, হিজবুল্লাহর সংসদ সদস্য হাসান ফাদলাল্লাহ ইসরায়েলকে চুক্তি ভঙ্গকারী বলে অভিযুক্ত করেছেন। তিনি বলেন, সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে ফিরে আসা ব্যক্তিদের ওপর ইসরায়েলি শত্রুপক্ষ হামলা চালাচ্ছে। এমনকি এই অবস্থায়ও ইসরায়েল চুক্তি লঙ্ঘন করছে।

যুদ্ধবিরতির এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ চুক্তিটির নাজুক অবস্থা স্পষ্ট করেছে। গাজা যুদ্ধে সমান্তরাল সংঘাত বন্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের মধ্যস্থতায় হওয়া চুক্তিটি ৬০ দিনের জন্য কার্যকর। এতে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য রয়েছে।

বৃহস্পতিবারের বিমান হামলাটি যুদ্ধবিরতির পর প্রথম বড় আঘাত। লেবাননের নিরাপত্তা সূত্র এবং আল জাদিদ সম্প্রচারমাধ্যম জানায়, হামলাটি লিটানি নদীর উত্তরের বাইসারিয়াহ এলাকায় হয়েছে।

চুক্তি অনুযায়ী, লিটানি নদীর দক্ষিণে অনুমোদনহীন সামরিক স্থাপনা সরিয়ে ফেলার শর্ত থাকলেও উত্তরের স্থাপনাগুলো নিয়ে কোনও নির্দেশনা নেই।

এর আগে, ইসরায়েলি ট্যাংকের গোলাগুলিতে দক্ষিণ লেবাননের পাঁচটি শহর এবং কিছু কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে অন্তত দুইজন আহত হন বলে জানিয়েছে স্থানীয় নিরাপত্তা সূত্র।

সব ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ব্লু লাইন নামক সীমান্ত রেখার ২ কিলোমিটারের মধ্যে। ইসরায়েল ওই অঞ্চলকে চুক্তি সত্ত্বেও প্রবেশ নিষিদ্ধ এলাকা ঘোষণা করেছে।

দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী গ্রাম থেকে বাস্তুচ্যুত লেবাননবাসীরা বাড়ির পরিস্থিতি দেখতে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। তবে, ইসরায়েলি সেনারা এখনও সীমান্তের ভেতর লেবাননের শহরগুলোতে অবস্থান করছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বৃহস্পতিবার লিটানি নদীর দক্ষিণে সন্ধ্যা ৫টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত চলাচলে কারফিউয়ের মেয়াদ বাড়িয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে চুক্তিটি একটি বিরল কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এতে ইসরায়েলি সেনাদের ৬০ দিনের মধ্যে দক্ষিণ লেবানন থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। তবে কোনও পক্ষই নতুন আক্রমণ চালাতে পারবে না।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, উত্তরের ইসরায়েলিদের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার সুযোগ দিতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। কিন্তু এখনও প্রায় ৬০ হাজার মানুষ ঘরে ফেরার নির্দেশনা পাননি।

হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইসরায়েলি শত্রুর আকাঙ্ক্ষা ও আক্রমণ মোকাবিলা করার জন্য তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। একইসঙ্গে সেনা প্রত্যাহার পর্যবেক্ষণ করবে।

হিজবুল্লাহ সাম্প্রতিক সংঘাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে। দলটির নেতা সাইয়্যেদ হাসান নাসরাল্লাহ ও অন্যান্য কমান্ডাররা ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন।