যুদ্ধবিরতি আলোচনার মধ্যেই গাজায় ইসরায়েলি হামলা, নিহত ৪২

গাজা যুদ্ধবিরতি আলোচনায় অগ্রগতির জন্য কায়রোর উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন হামাস নেতারা। এর মধ্যেই ইসরায়েলি সামরিক হামলায় গাজার বিভিন্ন স্থানে অন্তত ৪০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। আহত অনেকে। বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) রাত থেকে শুক্রবার পর্যন্ত হতাহতের এ ঘটনা ঘটেছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ইসরায়েলি হামলার পর নুসাইরাত শরণার্থী শিবিরের উত্তরের এলাকাগুলো থেকে ১৯টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার বেইত লাহিয়ার একটি বাড়িতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এছাড়া গাজার উত্তরের এবং দক্ষিণের বিভিন্ন এলাকায় আরও লোক নিহত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী শুক্রবার নতুন কোনও বিবৃতি দেয়নি। তবে বৃহস্পতিবার জানিয়েছিল, গাজা উপত্যকার ‘সন্ত্রাসী লক্ষ্যবস্তুতে হামলা’ অব্যাহত রেখেছে তারা।

বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি ট্যাঙ্ক নুসাইরাত শরণার্থী শিবিরের উত্তর ও পশ্চিমাংশে প্রবেশ করে। শুক্রবার উত্তরাংশ থেকে তারা সরে গেলেও শিবিরের পশ্চিম অংশে সক্রিয় ছিল।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শুক্রবার একটি ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় গাজার উত্তর প্রান্তের কামাল আদওয়ান হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটের প্রধান আহমেদ আল-কাহলুত নিহত হন। হাসপাতালটি বর্তমানে জ্বালানি, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং খাদ্য ঘাটতির কারণে কার্যত অচল। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হাসপাতালের বেশিরভাগ কর্মীকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আটক বা বহিষ্কার করেছে।

ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস গাজায় অবিলম্বে অস্ত্রবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন। উত্তর গাজায় জনগণকে তাদের ভূমি ও বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদ করতে ইসরায়েল ত্রাণ সরবরাহ বন্ধ করে ‘ক্ষুধার অস্ত্র’ ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করেছেন।

গাজায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে কয়েক মাসের প্রচেষ্টা খুব বেশি অগ্রগতি হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে আলোচনায় গতি আনতে কায়রো গেছেন হামাস নেতারা। গত বুধবার থেকে হামাসের মিত্র হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে।