গাজার প্রধান কার্গো ক্রসিং দিয়ে ত্রাণ সরবরাহ বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের ত্রাণ সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ)। সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর লুটপাটের হুমকিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রবিবার (১ ডিসেম্বর) সংস্থাটির প্রধান ফিলিপ ল্যাজারিনি এই তথ্য জানিয়েছেন। ত্রাণ সংকটের জন্য তিনি ইসরায়েলি নীতিকে দায়ী করেছেন। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি এ খবর জানিয়েছে।
শীতল ও বৃষ্টিস্নাত আবহাওয়ার মধ্যে ত্রাণ বন্ধ হওয়া গাজার মানবিক বিপর্যয় আরও বাড়াবে। বর্তমানে লক্ষাধিক ফিলিস্তিনি ত্রাণশিবিরে অমানবিক পরিবেশে বসবাস করছে এবং তাদের খাদ্য সহায়তার জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। উত্তর গাজায় দুর্ভিক্ষের শঙ্কার কথা জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ইসরায়েলি বাহিনী গত অক্টোবর থেকে ওই অঞ্চলকে প্রায় সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে।
ইউএনআরডব্লিউএর প্রধান ল্যাজারিনি জানান, কারেম শালোম ক্রসিংয়ের পথে ত্রাণবাহী ট্রাকগুলো গাজার অভ্যন্তরে বিপজ্জনক অবস্থার মধ্যে পড়েছে। নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ১০০টি ট্রাক লুট করার ঘটনা ঘটে এবং শনিবার আরও একটি ত্রাণ চালান সশস্ত্র গোষ্ঠীর হাতে পড়ে।
কারেম শালোম ক্রসিংটি ইসরায়েল ও গাজার মধ্যে প্রধান কার্গো ক্রসিং এবং এটি মিসরের রাফাহ ক্রসিং বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে ত্রাণ সরবরাহের প্রধান পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ইসরায়েলি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত মাসে গাজায় প্রবেশ করা ত্রাণের দুই-তৃতীয়াংশ এই ক্রসিংয়ের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়।
ল্যাজারিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তকে দায়ী করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ত্রাণ সীমিত করার নীতি, রাস্তায় নিরাপত্তাহীনতা এবং হামাস পরিচালিত পুলিশের ওপর ইসরায়েলি হামলার কারণে মানবিক কার্যক্রম ভেঙে পড়েছে।
ইসরায়েল এ বিষয়ে কোনও তাৎক্ষণিক মন্তব্য করেনি। তবে তারা বরাবরই দাবি করে আসছে, গাজায় প্রয়োজনীয় পরিমাণ ত্রাণ সরবরাহ করা হচ্ছে। ইসরায়েলি সরকার ইউএনআরডব্লিউএকে হামাস দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে এবং গত মাসে সংস্থাটির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার আইন পাস করেছে।
রবিবার গাজায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে। মুওয়াসি এলাকার একটি ত্রাণশিবিরে হামলায় ছয় ও আট বছরের দুই শিশু নিহত হয়। একই ঘটনায় তাদের মা ও আট মাস বয়সী বোন আহত হন।
একই রাতে রাফাহ শহরে আরেকটি হামলায় চারজন পুরুষ নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলেছে, তারা এই এলাকাগুলোতে হামলা সম্পর্কে অবগত নয়। তবে তাদের দাবি, তারা কেবল জঙ্গিদের লক্ষ্যবস্তু করে এবং বেসামরিক জনগণের ক্ষতি এড়াতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে।
ইসরায়েলি নেতার যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ
ইসরায়েলের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোশে ইয়ালন উত্তর গাজায় ইসরায়েলি কার্যক্রমকে জাতিগত নিধন বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, বেইত হানুন, বেইত লাহিয়া আর নেই। জাবালিয়া ক্যাম্পে কার্যক্রম চালিয়ে আরবদের সাফ করা হচ্ছে।
ইসরায়েলের লিকুদ পার্টি ইয়ালনের বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে বলেছে, তার এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত এবং ইসরায়েলের বিরোধী শিবিরের জন্য একটি পুরস্কারস্বরূপ।