সিরিয়ায় ইরানের প্রভাব কমছে, চরমপন্থিদের উত্থানের শঙ্কা

বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো রাজধানী দামেস্ক দখলের মাধ্যমে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পতন হয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব কমার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তবে ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও আরব শক্তিগুলোকে এখন নতুন সংকটের মুখোমুখি হতে পারে তা হলো—চরমপন্থি শক্তির উত্থান ও স্থিতিশীলতার অনিশ্চয়তা। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই পরিস্থিতির কথা উঠে এসেছে।

বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস)। এটি একটি সুন্নি মুসলিম সংগঠন, যা একসময় আল-কায়েদার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল। যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘ এই সংগঠনটিকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। পশ্চিমা ও আরব দেশগুলো আশঙ্কা করছে, এইচটিএস-এর নেতৃত্বাধীন জোট আসাদের শাসনের পরিবর্তে একটি কঠোর ইসলামি সরকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করতে পারে, যা চরমপন্থি শক্তির পুনরুত্থানের ঝুঁকি বাড়াবে।

ইরাক ও লিবিয়ার গৃহযুদ্ধের উদাহরণ তুলে ধরে গালফ রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক আবদুলআজিজ আল-সাগার বলেন, আসাদের হঠাৎ পতন থেকে সৃষ্ট ক্ষমতার শূন্যতা নিয়ে আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক স্তরে বড় ধরনের আশঙ্কা রয়েছে।

একজন পশ্চিমা কূটনীতিকের ভাষায়, বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে ঐক্যের অভাবে সিরিয়ার মতো জটিল জাতির ভবিষ্যৎ শাসনের কোনও পরিকল্পনা নেই। ফলে চরমপন্থি গোষ্ঠীগুলোর পুনরুত্থানের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আসাদের পতনকে স্বাগত জানালেও এটিকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিশ্চিত মুহূর্ত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। আসাদ সরকারের পতনের পর যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেট (আইএস) এর সম্ভাব্য উত্থান ঠেকাতে বেশ কয়েকটি বিমান হামলা চালিয়েছে।

১৩ বছর ধরে আসাদ সরকারকে সামরিক সহযোগিতা দিয়ে সমর্থন জানিয়ে আসা ইরান ও রাশিয়া এখন বড় ধরনের প্রভাব হারানোর মুখে। আসাদের সরকারের পতন তেহরানের মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মিলিশিয়া নেটওয়ার্ক পরিচালনার ক্ষমতাকে দুর্বল করেছে। রাশিয়াও তার সিরিয়ার সামরিক ঘাঁটিগুলো নিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

সিরীয় বিদ্রোহীদের একাংশ। ছবি: রয়টার্স

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আসাদের পতনকে ‘ঐতিহাসিক দিন’ বলে অভিহিত করেছেন। ইসরায়েলি বাহিনী সিরিয়ার সীমান্ত এলাকাগুলোতে অবস্থান গ্রহণ করেছে এবং রাসায়নিক অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র মজুদের স্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে।

সিরিয়ার জাতীয় বিরোধী জোটের সভাপতি হাদি আল-বাহরা বলেছেন, সিরিয়ায় একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সুযোগ রয়েছে। তিনি ১৮ মাসের মধ্যে একটি সংবিধান প্রণয়ন ও নির্বাচনের আহ্বান জানিয়েছেন।

সিরিয়ার বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোতে নেতৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্ব বিদ্যমান। তুর্কি-সমর্থিত বাহিনী উত্তরাঞ্চলে প্রভাবশালী, আর যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত কুর্দি গোষ্ঠীগুলো উত্তর-পূর্বাঞ্চলে নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ নতুন সংকট সৃষ্টি করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন।