হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহতের দাবি ইসরায়েলের

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা ইসরায়েলের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা করেছে। মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) সকালে এতে দেশটির কেন্দ্রীয় ও দক্ষিণাঞ্চলে সতর্কতা সাইরেন বেজে ওঠে। গত এক সপ্তাহের মধ্যে এটি তৃতীয় হামলা। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানায়, ক্ষেপণাস্ত্রটি ইসরায়েলি আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল এ খবর জানিয়েছ।

আইডিএফ বলেছে, দূপাল্লার অ্যারো আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে এটি ধ্বংস করা হয়, যা বায়ুমণ্ডলের বাইরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে সক্ষম।

ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের পর এর টুকরো পড়তে পারে এমন আশঙ্কায় হারজেলিয়া থেকে আশদোদ পর্যন্ত এবং বিয়ারশেভার পূর্বাঞ্চলের বেশ কয়েকটি শহরে সাইরেন বাজানো হয়। তবে, মাগেন ডেভিড আদম জরুরি সেবার তথ্য অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্র বা এর ধ্বংসাবশেষে কারও আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

তবে, তেল আবিবে একটি আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার পথে ৬০ বছর বয়সী এক নারী পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন এবং তাকে ইচিলভ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া, সাইরেনের কারণে আতঙ্কিত হয়ে দৌড়ানোর সময় পড়ে গিয়ে বা উদ্বেগজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে ২৫ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

হুথিদের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা হেজাম আল-আসাদ হামলার পরপরই টুইট করে জানান, গাজার জনগণের ওপর আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এমন হামলা অব্যাহত থাকবে।

হুথিদের পাশাপাশি লেবাননের হিজবুল্লাহও একই ধরনের হুমকি দিয়েছিল। তবে, ইসরায়েলের পাল্টা আক্রমণে তাদের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস হওয়ায় তারা আপস করতে বাধ্য হয়।

সোমবার হুথিরা ইসরায়েলে ড্রোন হামলার দায় স্বীকার করে। আইডিএফ জানায়, ইসরায়েলি আকাশসীমার বাইরে একটি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হুথিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, ইরানের অন্যান্য সন্ত্রাসী বাহিনীর মতো হুথিদের বিরুদ্ধেও একই শক্তি প্রয়োগ করা হবে।

বিরোধীদলীয় নেতা বেনি গান্তজ সোমবার বলেছেন, ইসরায়েলকে এই আক্রমণের জন্য সরাসরি ইরানকে লক্ষ্যবস্তু করতে হবে। নিরাপত্তা মন্ত্রিসভায় ইরানকে মোকাবিলার বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

গত বছর ইসরায়েলের দিকে হুথিরা ২০০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১৭০টি ড্রোন ছুড়েছে। এর বেশিরভাগই ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ধ্বংস হয়েছে। তবে, সাম্প্রতিক হামলার জবাবে ইসরায়েল তিনবার ইয়েমেনে হুথি লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালিয়েছে।

হুথিদের এসব হামলা লোহিত সাগর দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলেও ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা আক্রমণেও বিদ্রোহীরা দমে যায়নি।