ফিলিস্তিনের গাজার শরণার্থী শিবিরে মাত্র তিন সপ্তাহ বয়সী এক শিশুকন্যা তীব্র শীতে মারা গেছে। একই সময়ে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ১০ জন। এমন পরিস্থিতে এই মৃত্যু হলো যখন ইসরায়েল ও হামাস যুদ্ধবিরতি চুক্তি জটিল করে তোলার জন্য একে অপরকে দোষারোপ করছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এ খবর জানিয়েছে।
শিশু কন্যার মৃত্যু গাজা উপত্যকার শরণার্থী শিবিরগুলোতে বসবাসের অমানবিক পরিস্থিতি আবারও সামনে এসেছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুটিসহ সম্প্রতি তীব্র ঠান্ডায় তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শিবিরগুলোতে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি, যারা ইসরায়েলি হামলার কারণে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে এসেছেন, জরাজীর্ণ তাঁবুতে ঠাঁই নিয়েছেন।
গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার ভোরে গাজা সিটির জেইতুন এলাকায় এক বাড়িতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় পাঁচজন নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছেন। অনেকেই ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এছাড়া, আল-আউদা হাসপাতালের কাছাকাছি নুসাইরাত এলাকায় সাংবাদিকদের একটি গাড়িতে হামলায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এরা আল-কুদস আল-ইয়াওম টেলিভিশন চ্যানেলের সঙ্গে কাজ করতেন। স্থানীয় সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, গাড়িটি মিডিয়া ভ্যান হিসেবে চিহ্নিত ছিল। তবে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, গাড়িটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের অংশ নিয়েছিল এবং এর ভেতরে ইসলামিক জিহাদের সদস্যরা ছিলেন।
গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ইসরায়েলি হামলায় ৪৫ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের অর্ধেকের বেশি নারী ও শিশু। এই আক্রমণ শুধু ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞই সৃষ্টি করেনি, বরং গাজার ২৩ লাখ মানুষের ৯০ শতাংশকে বারবার বাস্তুচ্যুত করেছে।
গাজার শরণার্থী শিবিরগুলোতে শীতের কষ্ট আরও বাড়িয়ে তুলেছে। ত্রাণ সংস্থাগুলো খাদ্য, কম্বল, গরম কাপড় ও জ্বালানির সংকটের কথা জানিয়েছে। শিশুটির বাবা মাহমুদ আল-ফাসিহ জানান, তাঁবুর ফাঁক দিয়ে প্রবেশ করা ঠান্ডা বাতাস ও মাটির শীতলতা তারা সহ্য করতে পারলেও তার নবজাতক সিলা পারলো না। চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন, শিশুটির মৃত্যু হয়েছে হাইপোথার্মিয়ার কারণে।
এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলমান এই যুদ্ধে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা সৃষ্টি হলেও তা জটিল আকার ধারণ করেছে। ইসরায়েল ও হামাস উভয়েই আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা বলছে, তবে জিম্মি বিনিময় ও ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার নিয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
হামাস অভিযোগ করেছে, ইসরায়েল নতুন শর্ত আরোপ করছে যা চুক্তি বাস্তবায়নে বিলম্ব ঘটাচ্ছে। অন্যদিকে, ইসরায়েল হামাসকে আগের সমঝোতা থেকে সরে আসার অভিযোগ তুলেছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামলার পর হামাস গাজায় প্রায় ২৫০ জনকে জিম্মি করে। ইতোমধ্যে ১০০ জনের বেশি জিম্মি মুক্তি পেয়েছেন, তবে এখনও ১০০ বন্দি রয়ে গেছেন বলে ইসরায়েল জানিয়েছে।