উত্তর গাজার কামাল আদওয়ান হাসপাতাল জোরপূর্বক খালি করে দিয়েছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী।শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এটি গাজার শেষ কার্যকরী হাসপাতালগুলোর একটি। এর আগে ওই হাসপাতালের আশেপাশে ইসরাইলি বিমান হামলায় ডজনখানেক মানুষ নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
কামাল আদওয়ান হাসপাতালের নার্সিং বিভাগের প্রধান ঈদ সাব্বাহ বিবিসিকে জানান, শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে মাত্র ১৫ মিনিট সময় দেয় রোগী ও স্টাফদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য।
ডা. সাব্বাহ আরও জানান, ইসরায়েলি সেনারা এরপর হাসপাতালে প্রবেশ করে এবং সেখানে থাকা রোগীদের সরিয়ে নেওয়া শুরু করে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ওই এলাকায় হামলার বিষয়ে ‘অজ্ঞাত’ এবং চিকিৎসক নিহতের বিষয়ে তদন্ত করছে।
ডা. সাব্বাহ বলেন, ‘এটি খুবই বিপজ্জনক কারণ আইসিইউ বিভাগের রোগীরা কোমায় আছেন। তারা ভেন্টিলেশন মেশিনে নির্ভরশীল। সরানো হলে তাদের জীবনের ঝুঁকি বাড়বে।’
এছাড়া যদি সেনাবাহিনী এই রোগীদের সরানোর কাজ চালিয়ে যেতে চায়, তবে তাদের বিশেষায়িত যানবাহনের প্রয়োজন হবে।
ইসরাইলি ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ) এখনও পর্যন্ত সরানোর বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি। তবে এর আগের সপ্তাহে একজন ইসরাইলি কর্মকর্তা বলেছিলেন, তারা কামাল আদওয়ান হাসপাতালের রোগীদের নিকটবর্তী ইন্দোনেশিয়ান হাসপাতালে স্থানান্তর করার পরিকল্পনা করছে, যা ইসরাইলি সেনাবাহিনী মঙ্গলবার খালি করে দিয়েছিল।
এ ঘটনা এমন সময় ঘটেছে যখন কামাল আদওয়ান হাসপাতালের পরিচালক জানিয়েছেন, হাসপাতালের আশপাশে একাধিক ইসরাইলি বিমান হামলায় প্রায় ৫০ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে পাঁচজন মেডিক্যাল স্টাফ রয়েছেন।
উত্তর গাজার বেইত লাহিয়ায় অবস্থিত কামাল আদওয়ান হাসপাতাল অক্টোবর থেকে ইসরাইলি অবরোধের মধ্যে রয়েছে। সেনাবাহিনী জানিয়েছিল যে, তারা হামাসের পুনর্গঠন ঠেকানোর জন্য সেখানে অভিযান শুরু করেছে।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হাসপাতাল প্রশাসকরা সুরক্ষার জন্য মরিয়া আবেদন জানিয়েছেন। কারণ তারা বলছেন, হাসপাতালগুলো নিয়মিত ইসরায়েলি গোলাবর্ষণ ও বিস্ফোরণের লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠেছে।
অক্সফাম জানিয়েছে, অক্টোবর থেকে ওই এলাকায় সহায়তা সরবরাহের চেষ্টা বারবার ব্যর্থ হয়েছে। কারণ ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ‘ইচ্ছাকৃত বিলম্ব এবং পদ্ধতিগত বাধা’ সৃষ্টি করেছে।