ফিলিস্তিনের গাজায় চলমান হামাস-ইসরায়েল সংঘাতে যুদ্ধবিরতির জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও আরব মধ্যস্থতাকারীদের প্রচেষ্টায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে। তবে এখনও চুক্তি স্বাক্ষর সম্ভব হয়নি। বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) এই আলোচনায় যুক্ত ফিলিস্তিনি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বিষয়টি জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও মিসর গাজায় ১৫ মাসের সংঘাত থামানো এবং হামাসের হাতে আটক জিম্মিদের মুক্তির লক্ষ্যে একটি চুক্তি অর্জনে জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। তবে নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের আগে এই চুক্তি সম্পন্ন করার তাগিদ বাড়ছে।
ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ২০ জানুয়ারির অভিষেকের আগে যদি জিম্মিদের মুক্তি না দেওয়া হয়, তবে এর ‘মারাত্মক পরিণতি’ হবে।
একজন ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা বলেছেন, আলোচনা চলমান, থমকে যায়নি। বরং এটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুতর প্রচেষ্টা। মধ্যস্থতাকারীরা প্রতিটি শব্দ ও বিশদ বিষয় নিয়ে আলোচনা করছে। পুরোনো বিভেদগুলো কমানোর ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে, তবে চুক্তি এখনও হয়নি।
ইসরায়েল মঙ্গলবার জানিয়েছে, তারা জিম্মিদের ফিরিয়ে আনার চুক্তি করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে হামাসের বাধা এতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।
কাতারে আলোচনার মাঝেই ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী গাজার বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায়। বৃহস্পতিবারের এই হামলায় ১৭ জন নিহত হন বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭০-এ দাঁড়িয়েছে।
গাজার সবচেয়ে বড় শরণার্থী শিবির জাবালিয়ায় একটি বাড়িতে ইসরায়েলি হামলায় আটজন নিহত হন। কেন্দ্রীয় গাজায় আরও দুইটি বাড়িতে বিমান হামলায় এক বাবা ও তার তিন সন্তানসহ নয়জনের মৃত্যু হয়।
মৃতদের দাফনে শোকার্ত পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালের সামনে জড়ো হন। দেইর আল-বালাহ শহরের বাসিন্দা আদেল আল-মানসি বলেন, এই দেশে শিশু, নারী, বৃদ্ধ, পাথর, গাছ, পশু বা পাখি—কেউই নিরাপদ নয়। প্রত্যেকেই হুমকির মধ্যে, কোনও পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই হামলা হচ্ছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এই হামলাগুলো সম্পর্কে কোনও মন্তব্য করেনি।
পোপ ফ্রান্সিস গাজার মানবিক পরিস্থিতিকে অত্যন্ত গুরুতর ও লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, শিশুরা যখন ঠান্ডায় মারা যাচ্ছে কারণ হাসপাতাল ধ্বংস করা হয়েছে বা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে, আমরা তা মেনে নিতে পারি না।
ইসরায়েল দাবি করেছে, তারা গাজায় মানবিক ত্রাণ সরবরাহে কোনও বাধা দিচ্ছে না। বরং গত সপ্তাহে শত শত ট্রাক খাদ্য, পানি, ওষুধ ও আশ্রয়ের সামগ্রী সরবরাহ করেছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের যোদ্ধারা ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে হামলা চালিয়ে ১ হাজার ২০০ জনকে হত্যা ও ২৫০ জনের বেশি মানুষকে জিম্মি করে। এর প্রতিশোধ হিসেবে ইসরায়েল গাজায় হামলা শুরু করে। গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত ৪৫ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।