ট্রাম্প ও কট্টর ডানপন্থিদের নিয়ে সংকটে নেতানিয়াহু

গাজায় যুদ্ধবিরতি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে একটি সংকটময় পরিস্থিতির মুখে ফেলেছে। একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি প্রচেষ্টা, অন্যদিকে কট্টর ডানপ মিত্রদের যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার দাবি—এই দুইয়ের মাঝে ভারসাম্য রাখতে তিনি বিপাকে পড়েছেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

নেতানিয়াহুর জোট সরকার রক্ষা করা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি ট্রাম্পের সমর্থন ধরে রাখা অপরিহার্য। ট্রাম্প এই যুদ্ধবিরতিকে ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের কূটনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন।

যুদ্ধবিরতির বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে একজন কট্টর মিত্র ইতামার বেন-গভিরের পার্টি সরকার থেকে সরে গেছে। আরেকজন, অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ, হুমকি দিয়েছেন যে যদি যুদ্ধবিরতির প্রথম পর্বের পর হামাসের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু না হয়, তবে তিনিও জোট ছেড়ে দেবেন।

প্রথম পর্বের যুদ্ধবিরতি ছয় সপ্তাহ স্থায়ী হওয়ার কথা। ১৬ দিন পর, অর্থাৎ ৪ ফেব্রুয়ারি, ইসরায়েল ও হামাস দ্বিতীয় পর্যায়ের আলোচনা শুরু করবে। এই আলোচনার লক্ষ্য যুদ্ধের অবসান ঘটানো।

স্মোট্রিচ রবিবার চ্যানেল ১৪-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, আমাদের সম্পূর্ণ ভিন্ন কৌশলে ফিরে যেতে হবে। গাজা দখল করতে হবে, সামরিক শাসন স্থাপন করতে হবে এবং শত্রুদের এলাকা দখল করতে হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য দূত স্টিভ উইটকফ যুদ্ধবিরতির সফল বাস্তবায়নে কাজ করছেন। তার নেতৃত্বেই এই চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে। তিনি গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার নিশ্চিত করতে চান।

যুদ্ধবিরতির পর ট্রাম্প বলেছেন, আব্রাহাম চুক্তির প্রসার ঘটিয়ে তিনি সৌদি আরবকে এই চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করতে চান। তবে সৌদি আরব ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের শর্তে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চায়। নেতানিয়াহুর কট্টর ডানপন্থি মিত্ররা এতে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে।

ইসরায়েলের ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজ ইনস্টিটিউটের এক জরিপে দেখা গেছে, ৭০ শতাংশ ইসরায়েলি গাজা যুদ্ধবিরতিকে সমর্থন করে। তবে দ্বিতীয় পর্বের আলোচনায় হামাসকে গাজা শাসনের বাইরে সরানোর বিষয়টি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নেতানিয়াহু শনিবার এক ভিডিও বার্তায় বলেছেন, যদি আমরা আবার যুদ্ধ করতে বাধ্য হই, তবে নতুন উপায়ে এবং প্রবল শক্তি দিয়ে তা করব।