চার জিম্মির মৃতদেহ ইসরায়েলকে হস্তান্তর করলো হামাস

গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় প্রথমবারের মতো ইসরায়েলি বন্দিদের মরদেহ হস্তান্তর করলো হামাস। তাদের হাতে জিম্মি থাকা দুই শিশু ও মাসহ চারজনের মরদেহ বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) গাজা থেকে ইসরায়েলে আনা হয়েছে। দুই শিশু কেফির বিবাস ও অ্যারিয়েল বিবাস এবং তাদের মা শিরি বিবাসকে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর অপহরণ করা হয়েছিল। ওই সময় শিশু দুজনের বয়স ছিল  যথাক্রমে ৯ মাস ও ৪ বছর। চতুর্থ ওদেদ লিফশিৎজের বয়স ৮৪ বছর। ইসরায়েলি বিমান হামলায় বছরখানেক আগে তারা নিহত হয়েছে বরে দাবি করেছে হামাস। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

গাজার খান ইউনুস থেকে রেডক্রসের যানবাহন চারটি কালো কফিন নিয়ে চলে যায়। প্রতিটি কফিনের ওপরে অপহৃতদের একটি ছোট ছবি সংযুক্ত ছিল। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার সময় অপহৃতদের মধ্যে সবচেয়ে কনিষ্ঠ ছিল এই দুই শিশু। ওই সময় তাদের বিবাস পরিবারের আরেক সদস্য, শিশু দুইটির বাবা ইয়ারদেন বিবাসকেও অপহরণ করা হয়। তবে এর আগে চলতি মাসে যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় গাজা থেকে মুক্তি পেয়েছেন ইয়ারদেন বিবাস।

পোস্টারে ইয়ারদেন বিবাস, শিরি বিবাস ও তাদের দুই ছেলেকে দেখা যাচ্ছে। ছবি: রয়টার্স।

তবে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দুই শিশু ও মায়ের ভাগ্যে কী ঘটেছে, সেটি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের অপেক্ষা শেষ হচ্ছে না। মরদেহগুলোর ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে ইসরায়েলের কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করবে বলে ধারণা করা যাচ্ছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ইসরায়েল রাষ্ট্রের জন্য বৃহস্পতিবার ভীষণ কঠিন একটি দিন, বিষণ্ণ একটি দিন, শোকের একটি দিন।

যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে এবং কাতার ও মিসরের মধ্যস্থতায় গত মাসে হামাস এবং ইসরায়েলের মধ্যে সই হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় জিম্মি মুক্তি দেওয়া হচ্ছে। বিপরীতে ইসরায়েলের কারাগারগুলোয় দিনের পর দিন আটক থাকা অনেক ফিলিস্তিনি মুক্তি পাচ্ছেন।

হামাস ২০২৩ সালের নভেম্বরে দাবি করেছিল যে কফির, তার ভাই ও তাদের মা ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হয়েছে। কিন্তু ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেনি এবং শেষ মুহূর্তেও অনেকে আশায় ছিলেন যে তারা জীবিত রয়েছেন।

এদিকে অপহৃত ওদেদ লিফশিৎজ নির ওজ কিবুতজের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। তার স্ত্রী ইয়োচেভেদকেও অপহরণ করা হয়েছিল। তখন তার বয়স ছিল ৮৫ বছর। দুই সপ্তাহ পর তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

ওদেদ লিফশিৎজ ছিলেন একজন সাংবাদিক। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে বামপন্থী দৈনিক হারেৎজ-এ প্রকাশিত এক মতামত কলামে তিনি নেতানিয়াহুর নিরাপত্তা নীতি ও হামাস-গাজা সংক্রান্ত তার ব্যর্থতাগুলো নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছিলেন।