ইয়েমেনে মার্কিন হামলা অব্যাহত, সানায় নিহত ১

ইয়েমেনের রাজধানী সানায় রবিবার দিবাগত রাতে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে অন্তত একজনের মৃত্যু ও ১৩ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। হুথি নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আনিস আল-আসবাহি এক বিবৃতিতে বলেছেন, সানার আসের এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে মার্কিন হামলায় তিন শিশুসহ ১৩ জন আহত হয়েছেন। হুথিদের প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে ধ্বংসস্তূপ ও রক্তের ছোপ দেখা গেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

সাদা শহর, লোহিত সাগরতীরের বন্দরনগরী হোদাইদা এবং তেল-গ্যাসক্ষেত্রসমৃদ্ধ মারিব প্রদেশেও হামলা হয়েছে বলে হুথিদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বেশ কিছু সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে দাবি করা হয়েছে, হুথিরা মার্কিন নৌজাহাজে হামলা চালিয়েছে, তবে এসব দাবির সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি। 

গাজায় ইসরায়েলের অবরোধের প্রতিবাদে লোহিত সাগরে জাহাজে হামলা চালানোর হুথিদের ঘোষণার পর গত ১৫ মার্চ থেকে ইয়েমেনে বিমান হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। গত জানুয়ারিতে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকায় হুথিরা হামলা স্থগিত রাখে। তবে যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ায় তারা আবার হামলা শুরুর হুমকি দিয়েছে। 

মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইক ওয়াল্টজ বলেছেন, হুথিদের হুমকির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ৭৫ শতাংশ বাণিজ্যিক জাহাজ সুয়েজ খালের বদলে আফ্রিকার দক্ষিণ উপকূল ঘেঁষে দীর্ঘপথ পাড়ি দিচ্ছে। রবিবার ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, হুথিদের ছোড়া ব্যালিস্টিক মিসাইল তারা প্রতিহত করেছে। 

হুথিদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকে এখন পর্যন্ত মার্কিন হামলায় ইয়েমেনে অন্তত ৭৯ জন নিহত ও ১০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। 

যুক্তরাষ্ট্র কোন কোন স্থানকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। দেশটির প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা এএফপিকে বলেছেন, সেন্ট্রাল কমান্ড প্রতিদিন ও রাতেই ইরান-সমর্থিত হুথি অবস্থানের ওপর হামলা চালাচ্ছে।

ওয়াল্টজ দাবি করেছেন, এসব হামলায় হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির প্রধানসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে হত্যা করা হয়েছে।