ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় যেসব অস্ত্র ব্যবহার করছে ইসরায়েল

মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র উত্তেজনার মধ্যে ইরান গত তিন দিনে কয়েক শ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও আত্মঘাতী ড্রোন ইসরায়েলের দিকে ছুড়েছে। এই হামলার মুখে ইসরায়েলের বহুস্তরভিত্তিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিছুটা চাপের মুখে পড়লেও কার্যকর ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী।

১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধে ইরাক থেকে ছোড়া ‘স্কাড’ ক্ষেপণাস্ত্রের অভিজ্ঞতা থেকেই ইসরায়েল তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উন্নয়নে মনোযোগ দেয়। এরপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতায় তারা গড়ে তোলে একাধিক প্রতিরক্ষা স্তর, যা এখন ইরান থেকে আসা বিভিন্ন ধরনের হুমকি মোকাবিলায় ব্যবহৃত হচ্ছে।

৮০-৯০ শতাংশ সফলতা দাবি

শনিবার এক ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তা জানান, তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে সফলভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে পারছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, কোনও ব্যবস্থাই শতভাগ নিখুঁত নয়। কিছু ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা বলয় ভেদ করে ঢুকে পড়ছে।

ইসরায়েলের এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় রয়েছে চারটি মূল স্তর। এগুলো বিভিন্ন পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও রকেট মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকে।

অ্যারো সিস্টেম

দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলার জন্য ইসরায়েল গড়ে তুলেছে অ্যারো-২ ও অ্যারো-৩ সিস্টেম। অ্যারো-২ ক্ষেপণাস্ত্রকে বায়ুমণ্ডলের ভেতরে ধ্বংস করে। অ্যারো-৩ কাজ করে বায়ুমণ্ডলের বাইরে, অর্থাৎ মহাকাশ স্তরে। যেখানে পারমাণবিকবা রাসায়নিক ওয়ারহেড থাকা ক্ষেপণাস্ত্র নিরাপদে ধ্বংস করা যায়।

এই প্রকল্পের প্রধান দায়িত্বে রয়েছে ইসরায়েলি রাষ্ট্রায়ত্ত ইসরায়েল এয়ারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ (আইএআই)। যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানি এর কারিগরি অংশীদার।

ডেভিড’স স্লিং

মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ব্যবহৃত হয় ডেভিড’স স্লিং সিস্টেম। ১০০ থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরত্ব থেকে আসা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও বিমান ভূপাতিত করতে সক্ষম এই ব্যবস্থা।

এটি যৌথভাবে তৈরি করেছে ইসরায়েলের রাফায়েল অ্যাডভান্সড ডিফেন্স সিস্টেমস ও যুক্তরাষ্ট্রের আরটিএক্স করপোরেশন।

আয়রন ডোম

সংক্ষিপ্ত পাল্লার হামলার জন্য বহুল পরিচিত আয়রন ডোম ব্যবস্থাটি মূলত গাজা থেকে হামাসের ছোড়া রকেট ঠেকানোর উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছিল। এটি ২০১১ সাল থেকে চালু হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত হাজার হাজার রকেট প্রতিহত করেছে। প্রতিটি ইউনিট রাডার-গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে মাঝআকাশে হামলা রুখে দেয়।

আয়রন ডোম একটি ইন্টেলিজেন্ট সিস্টেম। রকেট যদি জনবসতিপূর্ণ এলাকায় পড়ার শঙ্কা না থাকে, তবে সেটিকে ভূপাতিত করে না এই ব্যবস্থা।

২০১৭ সাল থেকে এই সিস্টেমের একটি নৌ-সংস্করণও চালু করা হয়েছে। যা জাহাজ ও সাগরবেষ্টিত সম্পদ রক্ষায় ব্যবহৃত হচ্ছে।

মার্কিন থাড প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা

গত অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলে মোতায়েন করেছে থাড (টার্মিনাল হাই অলটিচ্যুড এরিয়া ডিফেন্স) ব্যবস্থা। এটি তীব্র আক্রমণ প্রতিহত করতে সক্ষম এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রকে উড়ন্ত অবস্থায় ধ্বংস করে। মার্কিন সেনাবাহিনী শুক্রবার ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র থামাতে ভূমিভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করেছে বলে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা।

এ ছাড়া পূর্ব ভূমধ্যসাগরে মোতায়েন একটি মার্কিন নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ার ও কয়েকটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে সহায়তা করেছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম।

আকাশ থেকে আকাশে প্রতিরক্ষা

ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার আকাশ থেকে ড্রোন ধ্বংস করতে এয়ার টু এয়ার মিসাইল ব্যবহার করছে। এর ফলে অনেক আত্মঘাতী ড্রোন লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে পড়ে।

এমনকি প্রতিবেশী জর্ডানের বিমান বাহিনীও শুক্রবার তাদের আকাশসীমায় ঢুকে পড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করেছে বলে জানিয়েছে জর্ডানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা।