পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেটেলারদের হামলায় মার্কিন নাগরিক নিহত

ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিম তীরের সিনজিলে অবৈধ সেটেলারদের হামলায় ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত এক মার্কিন নাগরিক নিহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুক্রবার গভীর রাতে সংঘটিত এ ঘটনায় আরও একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

নিহত ২০ বছর বয়সী সায়াফুল্লাহ মুসাল্লেত সাইফ নামেও পরিচিত। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার টাম্পার বাসিন্দা ছিলেন। তাকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। একই ঘটনায় ২৩ বছর বয়সী হুসেইন আল-শালাবিকে বুকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

মুসাল্লেতের পরিবার জানায়, হামলার তিন ঘণ্টা পরও চিকিৎসাকর্মীরা পৌঁছাতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত সাইফের ভাই নিজেই তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, এটি অকল্পনীয় এক দুঃস্বপ্ন ও ভয়াবহ অন্যায়। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের উচিত দ্রুত তদন্ত চালিয়ে ইসরায়েলি হামলাকারীদের বিচারের আওতায় আনা।

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর শুক্রবার জানায়, তারা এ বিষয়ে অবগত রয়েছে। তবে নিহত ব্যক্তির পরিবারের প্রতি সম্মান জানিয়ে আপাতত তারা আর কোনও মন্তব্য করছে না।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সিনজিল শহরে ফিলিস্তিনিদের পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় ইসরায়েলি নাগরিকরা সামান্য আহত হয়। এর জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে সেনারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে জনতা ছত্রভঙ্গ করতে প্রাণঘাতী নয় এমন অস্ত্র ব্যবহার করে। তবে মুসাল্লেতের মৃত্যু বিষয়ে বিস্তারিত কোনও ব্যাখ্যা দেয়নি তারা।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, ২০২৩ সালের শেষভাগে গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেটেলারদের সহিংসতা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। অন্যদিকে ফিলিস্তিনিদের হামলায় ইসরায়েলিরাও হতাহত হয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনী পশ্চিম তীরজুড়ে অভিযানও জোরদার করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইসরায়েলি সেটেলারদের ওপর বাইডেন প্রশাসন জারি করা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেন। এসব নিষেধাজ্ঞার আওতায় বসতি স্থাপনকারী এমন ব্যক্তিরা ছিলেন যাদের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতার অভিযোগ রয়েছে।

গত কয়েক বছরে পশ্চিম তীরে আরও কয়েকজন ফিলিস্তিনি-মার্কিন নাগরিক নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন সাংবাদিক শিরিন আবু আকলেহ, কিশোর ওমর মোহাম্মদ রাবেয়া এবং তুর্কি-মার্কিন মানবাধিকারকর্মী আয়সেনুর এজগি আইগি।

জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালতের গত বছরের রায় অনুসারে, পশ্চিম তীরসহ দখলকৃত ফিলিস্তিনি অঞ্চলগুলোতে ইসরায়েলের বসতি স্থাপন অবৈধ এবং সেখান থেকে অবিলম্বে সরে যাওয়া উচিত। তবে ইসরায়েল এই দাবিকে অস্বীকার করে আসছে। তারা ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের সময় দখলকৃত এসব ভূমির সঙ্গে ‘ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় সম্পর্ক’ দাবি করে।