সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে ইসরায়েলের বিমান হামলা, দক্ষিণে ভয়াবহ সংঘর্ষ

দ্রুজ সম্প্রদায়ের ওপর সিরীয় বাহিনীর হামলা বন্ধে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণের পর দামেস্কে বুধবার দুপুরে ইসরায়েল বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছে। রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওপর সরাসরি আঘাত হানে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান। হামলায় পুরো শহর কেঁপে ওঠে বিস্ফোরণে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

রয়টার্সের সংবাদদাতারা জানান, বিকাল নাগাদ ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান দামেস্কের আকাশে চক্কর দেয় এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে একাধিক  হামলা করে, এতে বিস্ফোরণ ঘটে। সেখান থেকে ঘন ধোঁয়া আকাশে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় দামেস্কবাসীদের ঘরে থাকতে নির্দেশ দেয় মন্ত্রণালয়।

হামলার কিছুক্ষণ আগেই ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ হামলার পূর্বাভাস দিয়ে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, বেদনাদায়ক আঘাত আসবে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী পরে জানায়, তারা দামেস্কে সিরীয় সরকারের সামরিক সদর দফতরের ফটকে হামলা চালিয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ সিরিয়ায় সরকারি বাহিনীর ট্যাংক ও ভারী অস্ত্রে সজ্জিত ট্রাকগুলোতেও আঘাত হানা হয়েছে।

গত কয়েক দিনে দক্ষিণ সিরিয়ার সুইদা শহরে সরকারি বাহিনী, বেদুইন যোদ্ধা ও দ্রুজ মিলিশিয়াদের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষে রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সিরিয়ার মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থা জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ১৬৯ জন নিহত হয়েছেন। তবে নিরাপত্তা সূত্র বলছে, মৃতের সংখ্যা ৩০০ ছাড়িয়েছে।

রয়টার্সকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সুইদার এক বাসিন্দা বলেন, চারপাশ থেকে গুলির শব্দ আসছে, শিশুরা ভয় পেয়ে কাঁপছে। আমরা ওদের চুপ করিয়ে রাখার চেষ্টা করছি, যাতে কারও দৃষ্টিতে না পড়ি।

ইসরায়েলে থাকা দ্রুজ সম্প্রদায়ের বহু মানুষ বুধবার সীমান্ত বেড়া ভেঙে সিরিয়ার অংশে প্রবেশ করেন এবং সেখানে তাদের স্বজনদের সঙ্গে মিলিত হন। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, তারা ওই বেসামরিকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে।

সিরিয়ায় ক্ষমতায় আসা নতুন ইসলামপন্থি প্রশাসনের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে ইসরায়েল বলেছে, দক্ষিণ সীমান্ত থেকে সরকারি বাহিনীকে প্রত্যাহার করতে হবে। ইসরায়েল বলেছে, তারা দ্রুজদের সুরক্ষায় প্রয়োজন হলে আরও সামরিক পদক্ষেপ নেবে।

ইসরায়েল ইতোমধ্যে সিরিয়া সীমান্তবর্তী গোলান মালভূমির কাছাকাছি অংশে সেনা মোতায়েন করেছে।

সোমবার সুইদা অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনতে সরকারি সেনা পাঠানো হয়। কিন্তু তারা দ্রুজ যোদ্ধাদের সঙ্গেই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সিরীয় সরকার দাবি করছে, অবৈধ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোই এই সহিংসতার জন্য দায়ী।

একই দিন যুক্তরাষ্ট্রের সিরিয়া বিষয়ক দূত টম ব্যারাক বলেছেন, শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছাতে আমরা সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। তিনি সিরিয়ার বর্তমান সরকারকে স্বাগত জানালেও দক্ষিণাঞ্চলের সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

মঙ্গলবার সুইদা শহরে থাকা রয়টার্সের এক প্রতিবেদক জানান, সরকারি সেনারা বাড়িঘরে ঢুকে লুটপাট চালাচ্ছে, গাড়ি, আসবাবপত্র চুরি করছে এবং ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিচ্ছে।  

সিরিয়ার সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সুইদার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আমরা দায়ীদের বিচারের আওতায় আনবো। তবে আমরা শহরবাসীর অধিকার রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা বারবার সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার অঙ্গীকার করলেও এই সহিংসতা তার নেতৃত্বের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের প্রক্রিয়া চললেও অভ্যন্তরীণ বিভাজন ও ধর্মীয় উত্তেজনা সিরিয়ার স্থিতিশীলতাকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।