ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের ৮ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে ইরান। শনিবার (৩০ আগস্ট) ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী গ্রেফতারের কথা জানিয়ে বলেছে, গ্রেফতারকৃতরা সংবেদনশীল সামরিক স্থাপনার অবস্থান ও শীর্ষ সেনা কর্মকর্তাদের তথ্য মোসাদের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
বিপ্লবী গার্ডের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা অনলাইনে বিশেষ প্রশিক্ষণ নিয়ে ইরানে হামলার পরিকল্পনা করছিলেন। তাদের গ্রেফতারের সময় রকেট লঞ্চার, বোমা, বিস্ফোরক ও ফাঁদ তৈরির সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। দেশটির উত্তরপূর্বাঞ্চল থেকে তাদের আটক করা হয়।
ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, জুন মাসে ইসরায়েলের বিমান হামলা চলাকালে এই ব্যক্তিরা মোসাদকে তথ্য সরবরাহ করেছিলেন। ওই হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হয় এবং শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ও বেসামরিক লোকজন নিহত হন। ১৯৮০–এর দশকে ইরাক যুদ্ধের পর এটিই ইসলামি প্রজাতন্ত্রের জন্য সবচেয়ে বড় আঘাত বলে বর্ণনা করছে তেহরান।
ইরান প্রতিশোধ হিসেবে ইসরায়েলের সামরিক ঘাঁটি, অবকাঠামো ও শহরগুলোর দিকে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। পরে ২২ জুন যুক্তরাষ্ট্রও যুদ্ধে জড়িয়ে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। মার্কিন মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলে ১২ দিন পর সংঘাতের অবসান ঘটে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই যুদ্ধের সময় দেশজুড়ে নিরাপত্তা বাহিনী অন্তত ২১ হাজার সন্দেহভাজনকে আটক করেছিল। তবে তাদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ প্রকাশ করা হয়নি। যুদ্ধ চলাকালে ব্যাপক ধরপাকড়ের পাশাপাশি নিরাপত্তা বাহিনী রাস্তায় উপস্থিতি জোরদার করে।
সম্প্রতি দেশটিতে দ্রুত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নজিরও বাড়ছে। ৯ আগস্ট পরমাণু বিজ্ঞানী রুজবেহ ভাদি-কে তথ্য পাচারের অভিযোগে ফাঁসি দেওয়া হয়। ইরানি কর্তৃপক্ষ বলছে, তিনি এক সহকর্মীর ব্যাপারে মোসাদকে তথ্য দিয়েছিলেন। ওই সহকর্মী পরে ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন।
তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, ইরান রাজনৈতিক দমন–পীড়নের হাতিয়ার হিসেবে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ ও দ্রুত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে থাকে।