খ্রিষ্টান জায়নবাদ খ্রিষ্টধর্মের জন্য হুমকি: জেরুজালেমের বিশপ

জেরুজালেমের শীর্ষস্থানীয় খ্রিষ্টান ধর্মীয় নেতারা সতর্ক করে বলেছেন, খ্রিষ্টান জায়নবাদ এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ খ্রিষ্টধর্মের ঐক্য ভবিষ্যৎকে হুমকির মুখে ফেলছে। পবিত্র ভূমি জেরুজালেমে ঐতিহাসিক খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ নিয়ে তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা খবরটি জানিয়েছে।

এক বিবৃতিতে চার্চ নেতারা বলেন, “এই কর্মকাণ্ড জনগণকে বিভ্রান্ত করে, ভুল ধারণা ছড়ায় এবং আমাদের অনুসারীদের ঐক্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।তারা অভিযোগ করেন, ইসরায়েল বিদেশের কিছু রাজনৈতিক শক্তির মদদপুষ্ট ক্ষতিকর মতাদর্শ পুরো অঞ্চলে খ্রিষ্টানদের উপস্থিতিকে দুর্বল করছে এবং চার্চের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে, একই সঙ্গে জেরুজালেমের ঐতিহাসিক খ্রিষ্টান নেতৃত্বের কর্তৃত্বকে উপেক্ষা করা হচ্ছে।

বিশপরা জানান, ইসরায়েলের ভূমি দখল, অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ এবং চার্চের সম্পত্তির ওপর চাপসহ রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন নীতির সঙ্গে এই সংকট গভীরভাবে জড়িত। ফিলিস্তিনি খ্রিষ্টানদের মতে, এসব পদক্ষেপ বিশ্বের প্রাচীনতম খ্রিষ্টান সম্প্রদায়গুলোর একটি ধ্বংসের পথে ঠেলে দিচ্ছে এবং তাদের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করে তুলছে।

চার্চ নেতৃত্ব আরও জানিয়েছেন, তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন যে এসব এজেন্ডা প্রচারকারী ব্যক্তিদের স্থানীয় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সরকারি আনুকূল্য প্রদান করা হচ্ছে তাদের মতে, এটি চার্চ পরিচালনায় অগ্রহণযোগ্য হস্তক্ষেপের শামিল।

সম্প্রতি প্রকাশিত একটি চার্চ প্রতিবেদনে জেরুজালেম, অধিকৃত পশ্চিম তীর গাজায় খ্রিষ্টান ঐতিহ্যের ওপর ক্রমবর্ধমান হুমকির কথা তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি চার্চ সংস্থাগুলো জানিয়েছে, ইসরায়েলের অনুমোদন সংক্রান্ত বিধিনিষেধের কারণে পূর্ব জেরুজালেমের স্কুলগুলোতে শিক্ষকরা পৌঁছাতে পারছেন না। এতে অন্তত ১৭১ জন শিক্ষক কর্মী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং শত শত শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি এমন এক সময়ে দেখা দিয়েছে, যখন ইসরায়েলের প্রতি ইভানজেলিক্যাল গোষ্ঠীর রাজনৈতিক আর্থিক সমর্থন, বিশেষ করে বসতি স্থাপনের সঙ্গে যুক্ত অনুদান, দখলদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করছে। এতে ফিলিস্তিনি খ্রিষ্টানরা আরও কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন এবং পবিত্র ভূমিতে খ্রিষ্টানদের ঐতিহাসিক উপস্থিতি দুর্বল হয়ে যাচ্ছে।