ইন্টারনেট খুলে দেওয়ার কথা ভাবছে ইরান, রাষ্ট্রীয় টিভি হ্যাকড

সহিংস বিক্ষোভের সময় ইন্টারনেট বন্ধ রাখার পর এবার সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার কথা ভাবছে ইরান সরকার। কয়েক দিনের মধ্যেই দেশজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ স্বাভাবিক হতে পারে বলে জানিয়েছেন দেশটির সংসদের এক শীর্ষ নেতা। এর মধ্যেই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে হ্যাকিংয়ের ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আজিজি বলেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই ইন্টারনেট সেবা আবার চালু করা হবে। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো পর্যালোচনা করছে। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ রাখায় জনগণের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ায় অনলাইন নিয়ন্ত্রণ আরও কড়াকড়ি করার কথাও ভাবছে সরকার।

ইরানের বিক্ষোভ চলাকালে তেহরানে পুড়িয়ে দেওয়া একটি ব্যাংক ভবন। ছবি: রয়টার্স

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বিক্ষোভ দমনে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ৫০০ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে কুর্দি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে। এ ছাড়া তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে গ্রেপ্তার অভিযান এখনও চলছে।

এদিকে এক ইরানি রাষ্ট্রদূত সতর্ক করে বলেছেন, বিদেশি হস্তক্ষেপের হুমকি পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণ সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে, দেশজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ এখনও খুব সীমিত। তবে কিছু জায়গায় আংশিক সংযোগ চালু থাকায় ধারণা করা হচ্ছে, সরকার কঠোর নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ধীরে ধীরে নেটওয়ার্ক চালুর পরীক্ষা করছে। এর মধ্যেই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে কয়েক মিনিটের জন্য হ্যাকিংয়ের ঘটনা ঘটে, যেখানে সরকারবিরোধী বার্তা ও বিদ্রোহের আহ্বান প্রচারিত হয়।

গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভকে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর সবচেয়ে বড় অস্থিরতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রাণহানির সংখ্যা ২০০৯ ও ২০২২ সালের আন্দোলনের চেয়েও বেশি হওয়ায় দেশটির ভেতরের পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।