ইয়েমেনে ২০২২ সালের পর সবচেয়ে বড় খাদ্য সংকটের আশঙ্কা

ইয়েমেনে এ বছরের শুরুতে ব্যাপক খাদ্য সংকটের আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইন্টারন্যাশনাল রেস্কিউ কমিটি (আইআরসি) সতর্ক করে বলেছে, এ বছরের শুরুতে প্রায় দুই কোটি মানুষের অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটানোর ঝুঁকি রয়েছে।  কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

ইয়েমেনে আইআরসি’র পরিচালক ক্যারোলিন সেকিওয়া বলেন, “ইয়েমেনে খাদ্যসংকট এখন আর সম্ভাব্য ঝুঁকি নয়। এটি প্রতিদিনের বাস্তবতা, যা অভিভাবকদের কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করছে। অনেক পরিবার তাদের সন্তানদের খাওয়ানোর জন্য বন্য উদ্ভিদও সংগ্রহ করছে। পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হচ্ছে।”

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্থনৈতিক মন্দা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং মানবিক সহায়তা কমে যাওয়ায় মৌলিক পুষ্টি কর্মসূচিগুলো ঠিকমতো কাজ করতে পারছে না। আগামী দুই মাসে ৪০,০০০ মানুষ দুর্ভিক্ষের মুখোমুখি হতে পারে, আর লাখ লাখ মানুষ প্রতিদিন ক্ষুধার্ত জীবন কাটাচ্ছে।

সেকিওয়া বলেন, তৎক্ষণিকভাবে সাহায্য পাঠানো গেলে এই সংকট রোধ করা সম্ভব। নগদ সহায়তা ও প্রয়োজনভিত্তিক সাহায্য পরিবারগুলোকে তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণে সাহায্য করতে পারে।

রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি এই সংকটকে আরও গুরুতর করে তুলেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত সমর্থিত দক্ষিণপন্থি বিচ্ছিন্নতাবাদীরা সৌদি সমর্থিত বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে।

বছরের পর বছর চলা যুদ্ধ, বাস্তুচ্যুতি এবং স্বাস্থ্যসেবার অভাবে মানুষের জীবন ধ্বংস হয়েছে। সাহায্য সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে, জরুরি পদক্ষেপ না নিলে ইয়েমেন ২০২২ সালের পর সবচেয়ে বড় দুর্ভিক্ষের মুখোমুখি হতে পারে।