সিরিয়ার নতুন সরকার ও কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেসের (এসডিএফ) মধ্যে কয়েক দিন আগে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি এখন খাদের কিনারায়। ইউফ্রেটিস নদীর পশ্চিম তীর থেকে এসডিএফের সেনা প্রত্যাহার ও বিভিন্ন স্থানে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
দামেস্কে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা এবং এসডিএফ নেতা মাজলুম আবদির (মাজলুম কোবানি) মধ্যে আলোচনা কোনও সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে। আলোচনার পর আবদি উত্তর-পূর্ব সিরিয়ায় ফিরে গেছেন।
আল-শাদ্দাদি কারাগার থেকে আইএসআইএল (আইএস) বন্দিদের পালিয়ে যাওয়া নিয়ে দামেস্ক ও এসডিএফের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পলাতক ২০০ জন আইএস সদস্যের মধ্যে ১৩০ জনকে পুনরায় গ্রেফতার করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, এসডিএফ রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা ব্ল্যাকমেইল করার উদ্দেশ্যে বন্দিদের মুক্তি দিয়েছে। অন্যদিকে, এসডিএফের দাবি, সেনাবাহিনী-সংশ্লিষ্ট উপজাতীয় যোদ্ধাদের হামলার কারণে কারাগারের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলায় এই ঘটনা ঘটেছে।
যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী, এক মাসের মধ্যে রাক্কা ও দেইর আজ জোর থেকে এসডিএফের সরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু চুক্তিটি পতনের মুখে পড়ায় মঙ্গলবার রাক্কায় এসডিএফের ১৭তম ডিভিশন সদর দফতর এবং আল-আকতান কারাগারের আশেপাশে সিরিয়ার সেনাবাহিনী কামানের গোলাবর্ষণ শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা এসডিএফ নেতা মাজলুম আবদিকে একটি প্রস্তাব দিয়েছেন। প্রস্তাবে আবদিকে উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং হাসাকার গভর্নর করার কথা বলা হয়েছে। বিনিময়ে হাসাকায় সরকারি নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন এবং কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির (পিকেকে) সদস্যদের ওই এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়ার শর্ত দেওয়া হয়েছে। মাজলুম আবদি এ নিয়ে আলোচনার জন্য পাঁচ দিন সময় চাইলেও আল-শারা তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং মঙ্গলবার শেষ হওয়ার আগেই সিদ্ধান্ত জানানোর আলটিমেটাম দেন।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে প্রেসিডেন্ট আল-শারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। দুই নেতা সিরিয়ার আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষা এবং কুর্দি জনগণের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সিরিয়া সরকার ও এসডিএফ উভয় পক্ষের ঘনিষ্ঠতা থাকায় ওয়াশিংটন এখন এক অনন্য অবস্থানে রয়েছে। তবে দামেস্কের সঙ্গে ওয়াশিংটনের ক্রমবর্ধমান সুসম্পর্ক এসডিএফের মনে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। লড়াই অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত কার পক্ষ নেবে, তা নিয়ে কুর্দি যোদ্ধাদের মধ্যে শঙ্কা বাড়ছে।
সিরিয়া সরকারের পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসবাদকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার যেকোনও প্রচেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে। অন্যদিকে, এসডিএফ জানিয়েছে, আক্রমণ ও যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন অব্যাহত থাকলে তারা অস্ত্র ত্যাগ করবে না।