গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৩

গাজা উপত্যকায় পৃথক দুটি ঘটনায় ইসরায়েলি গুলিতে তিন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। একই দিনে গাজা শহরে একটি ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় আরও চারজন বেসামরিক মানুষ আহত হন। রবিবার (২৫ জানুয়ারি) এমনটাই দাবি করেছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।   

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, উত্তর গাজার তুফাহ এলাকার পূর্বদিকে ইসরায়েলি গুলিতে অন্তত দু’জন নিহত হন। এছাড়া দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে ৪১ বছর বয়সী এক ব্যক্তি প্রাণ হারান।

চিকিৎসা কর্মীরা আরও জানিয়েছেন, গাজা সিটির একটি বহুতল ভবনের ছাদে একটি ইসরায়েলি ড্রোন বিস্ফোরিত হয়। এতে ভবনের আশপাশের রাস্তায় থাকা চারজন বেসামরিক মানুষ আহত হন।

এ বিষয়ে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্র বলেছেন, খান ইউনিসে কোনো ফিলিস্তিনি গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনা সম্পর্কে তারা অবগত নন। তুফাহ এলাকায় গুলিবর্ষণের অভিযোগ নিয়েও তাৎক্ষণিক কোনও মন্তব্য করেননি। 

তবে গাজা সিটির ড্রোন হামলার প্রসঙ্গে পরে দেওয়া এক লিখিত বিবৃতিতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, একটি স্থাপনার ছাদে থাকা একটি ক্যামেরাকে নির্ভুলভাবে আঘাত করা হয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, ওই ক্যামেরা সেনাদের ওপর হামলা পর্যবেক্ষণ ও পরিচালনায় ব্যবহৃত হচ্ছিল। তবে এই দাবির পক্ষে কোনও প্রমাণ তারা উপস্থাপন করেনি।  

সম্প্রতি, যুক্তরাষ্ট্রের দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার শনিবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেন। উইটকফ জানিয়েছেন, বৈঠকে প্রধানত গাজা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে উইটকফ বলেছেন, আলোচনা ছিল গঠনমূলক ও ইতিবাচক। উভয় পক্ষই পরবর্তী পদক্ষেপ এবং অঞ্চলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সব বিষয়ে চলমান সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে একমত হয়েছে।

উল্লেখ্য, শান্তি পরিকল্পনা বর্তমানে দ্বিতীয় ধাপে প্রবেশ করেছে। এই ধাপে ইসরায়েলের আরও সেনা প্রত্যাহারের কথা রয়েছে এবং হামাসের কাছ থেকে গাজার প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। তবে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন নিয়ে উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছে।