রাফাহ সীমান্ত সীমিতভাবে খুলতে সম্মত ইসরায়েল

ইসরায়েল জানিয়েছে, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে শেষ জিম্মির দেহাবশেষ উদ্ধারের পর তারা গাজা ও মিশরের মধ্যবর্তী রাফা সীমান্ত ক্রসিং সীমিত আকারে পুনরায় খুলে দেওয়ার অনুমতি দেবে। সোমবার প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় এই তথ্য প্রকাশ করেছে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। 

নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছে, সম্পূর্ণ ইসরায়েলি তল্লাশি ব্যবস্থার আওতায় কেবল পায়ে চলাচলের জন্য রাফাহ সীমান্ত খুলতে সম্মত হয়েছে ইসরায়েল।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত তখনই কার্যকর হবে, যখন সব জীবিত জিম্মিকে ফিরিয়ে আনা হবে এবং নিহত জিম্মিদের মরদেহ শনাক্ত করে ফেরানোর জন্য হামাস শতভাগ প্রচেষ্টা চালাবে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, রবিবার তারা গাজা উপত্যকার একটি কবরস্থানে শেষ জিম্মি র্যান গিভিলির মরদেহ উদ্ধারের জন্য তল্লাশি চালিয়েছে।

নেতানিয়াহুর কার্যালয় আরও জানিয়েছে, এই অভিযান শেষ হওয়ার পর এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া সমঝোতার আলোকে ইসরায়েল রাফাহ ক্রসিং খুলবে।

সম্প্রতি গাজার নতুন নিযুক্ত প্রশাসক আলি শাথ জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহেই রাফাহ সীমান্ত উভয় দিকের জন্য খুলে দেওয়া হবে। দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে তিনি আরও বলেছেন, গাজার ফিলিস্তিনিদের জন্য রাফাহ শুধু একটি সীমান্ত নয়; এটি জীবনরেখা এবং সম্ভাবনার প্রতীক।

এএফপির সংবাদে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার জেরুজালেমে নেতানিয়াহুকে রাফাহ সীমান্ত খুলতে উৎসাহ দিয়েছেন। বিশ্বনেতা ও ত্রাণ সংস্থাগুলো গাজায় ত্রাণ প্রবেশ বাড়ানোর জন্য ইসরায়েলের ওপর চাপ দিচ্ছে। দুই বছরের বেশি যুদ্ধে বিধ্বস্ত গাজার বাসিন্দারা খাদ্য, চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সামগ্রীর জন্য ত্রাণের ওপর নির্ভরশীল।

উল্লেখ্য, গাজা যুদ্ধ শুরু হয় ৭ অক্টোবর ২০২৩ সালে হামাসের ইসরায়েল হামলার মাধ্যমে, ১,২২১ জন নিহত হন। ইসরায়েলের প্রতিশোধে প্রায় ২২ লক্ষ বাসিন্দারা ঘড় ছাড়া ও গাজার বড় অংশ ধ্বংস হয়েছে। নভেম্বরে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, সেখানে ৭০,০০০ এর বেশি মানুষ মারা গেছেন।