ইরানের ওপর সীমিত হামলার আশঙ্কার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে শক্তি বাড়াতে বিশালাকার রণতরি ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড পাঠিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার বিশ্বের বৃহত্তম এই বিমানবাহী রণতরিটিকে আটলান্টিক মহাসাগর থেকে জিব্রাল্টার প্রণালী হয়ে ভূমধ্যসাগরে প্রবেশ করতে দেখা গেছে। তুরস্কের সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড এ খবর জানিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, তেহরানের সঙ্গে নতুন কোনও পারমাণবিক চুক্তি সফল না হলে তিনি ইরানের ওপর ‘সীমিত হামলার’ বিষয়টি বিবেচনা করছেন। এই লক্ষ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে নজিরবিহীন সামরিক সমাবেশ ঘটাচ্ছে ওয়াশিংটন।
সমুদ্রে রণসজ্জা
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ১৩টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে। এর মধ্যে বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ছাড়াও রয়েছে ৯টি ডেস্ট্রয়ার এবং ৩টি লিটোরাল কমব্যাট শিপ। নতুন করে আসা জেরাল্ড আর ফোর্ড-এর সঙ্গে রয়েছে আরও ৩টি ডেস্ট্রয়ার। এগুলো অবস্থানে পৌঁছালে এই অঞ্চলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের সংখ্যা দাঁড়াবে ১৭-তে।
সাধারণত একই সময়ে এই অঞ্চলে দুটি বিশালাকার বিমানবাহী রণতরি মোতায়েনের ঘটনা বিরল। এই জাহাজ দুটিতে হাজার হাজার নৌসেনা ছাড়াও কয়েক ডজন অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান রয়েছে।
আকাশপথে প্রস্তুতি
উন্মুক্ত গোয়েন্দা তথ্য এবং ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইটগুলোর তথ্যমতে, রণতরির যুদ্ধবিমান ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে বিপুল সংখ্যক আকাশযান পাঠিয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে: এফ-২২ র্যাপ্টর এবং এফ-৩৫ লাইটনিং স্টিলথ ফাইটার। এফ-১৫ ও এফ-১৬ যুদ্ধবিমান। এছাড়া দীর্ঘক্ষণ আকাশে অপারেশন সচল রাখতে কেসি-১৩৫ এরিয়াল রিফুয়েলিং এয়ারক্রাফট।
আকাশ প্রতিরক্ষা ও স্থলশক্তি
সমুদ্রে ডেস্ট্রয়ারগুলো গাইডেড মিসাইল দিয়ে আকাশ প্রতিরক্ষার কাজ করছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের স্থলভাগেও যুক্তরাষ্ট্র তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে বলে জানা গেছে। যদিও ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি স্থল যুদ্ধের শঙ্কা নেই, তবে এই অঞ্চলের বিভিন্ন ঘাঁটিতে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের হাজার হাজার সামরিক সদস্য অবস্থান করছেন।
প্রথম মেয়াদে ইরানের সঙ্গে করা পারমাণবিক চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর থেকেই ট্রাম্প তেহরানের ওপর চাপ প্রয়োগ করে আসছেন। নতুন এই বিশাল সামরিক উপস্থিতি ইরানের ওপর চূড়ান্ত চাপ সৃষ্টিরই একটি অংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে।