খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে আলোচনায় ৩ নাম

ইরানের চার দশকের একচ্ছত্র নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত হয়েছেন। ৮৬ বছর বয়সী এই নেতার অবর্তমানে কে ধরবেন শিয়া শাসিত দেশটির হাল, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট এ খবর জানিয়েছে।

গত জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের সময় যখন খামেনি আত্মগোপনে ছিলেন, তখনই তিনি দ্রুত তার উত্তরসূরি নিয়োগের জন্য তিন জনের নাম প্রস্তাব করেছিলেন। ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের মতে খামেনির পছন্দের সেই তালিকায় আছেন: ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম হোসাইন মহসেনি-এজেই, খামেনির দীর্ঘদিনের চিফ অব স্টাফ আলি আসগর হেজাজি এবং বিপ্লবের জনক আয়াতুল্লাহ খোমেনির নাতি এবং সংস্কার ও মধ্যপন্থি আলেম হাসান খোমেনি। ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি, হেজাজি হামলায় নিহত হয়েছেন।

খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি অন্তরালে বেশ শক্তিশালী হলেও খামেনি নিজে চেয়েছিলেন উত্তরাধিকার সূত্রে কেউ এই পদে না আসুক। আইন অনুযায়ী, বিশেষজ্ঞ পরিষদ (অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস) একজন জ্যেষ্ঠ শিয়া আলেমকে পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিয়োগ দেবে।

খামেনির মৃত্যুর খবরের পর ইরানের ভেতরে বিভক্তি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তেহরানের বেশ কিছু এলাকায় বিরোধীদের আনন্দ উল্লাস করতে দেখা গেছে। অন্যদিকে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি দাবি করেছেন, পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সব জ্যেষ্ঠ নেতা জীবিত আছেন।

মৃত্যু বা যুদ্ধের আশঙ্কায় খামেনি আগেই দেশ পরিচালনার ভার তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রধান আলি লারিজানির হাতে অর্পণ করেছেন। লারিজানি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আমরা জায়নবাদী অপরাধী ও অসম্মানজনক আমেরিকানদের অনুতপ্ত করবো।

খামেনি তার অবর্তমানে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আলি আসগর হেজাজি, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফ এবং সামরিক উপদেষ্টা জেনারেল ইয়াহিয়া রহিম সাফাভির সমন্বয়ে একটি ছোট দলকে দায়িত্ব দিয়ে গেছেন।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধে যদি কিছু নেতাকে হারাতেও হয়, তবে তা বড় কোনও সমস্যা হবে না। আত্মরক্ষায় ইরানের কোনও সীমাবদ্ধতা নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।