এবার ইরানের গোয়েন্দামন্ত্রীকে হত্যার দাবি ইসরায়েলের

ইরানের রাজধানী তেহরানে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় দেশটির গোয়েন্দামন্ত্রী ইসমাইল খাতিব নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ এই দাবি করেছেন। বুধবার এক নিরাপত্তা পর্যালোচনা সভায় তিনি জানান, আজকের দিনে সব ক্ষেত্রে ‘বড় ধরনের চমক’ অপেক্ষা করছে।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে কাৎজ বলেন, আজকের দিনে সব রণাঙ্গনেই বড় ধরনের চমকের প্রত্যাশা করা হচ্ছে, যা ইরান ও লেবাননের হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে আমাদের চলমান যুদ্ধকে আরও বেগবান করবে। ইরানে হামলার তীব্রতা বাড়ছে। গত রাতে ইরানের গোয়েন্দামন্ত্রী খাতিবকেও খতম করা হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার ইসরায়েলি হামলায় ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি এবং সেচ্ছাসেবী বাহিনী বাসিজ-এর প্রধান গোলামরেজা সোলাইমানি নিহত হন। আর যুদ্ধের শুরুর দিকেই নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা।

কাৎজ আরও জানান, তিনি এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীকে (আইডিএফ) নির্দেশ দিয়েছেন যে, ইরানের যেকোনও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে নির্মূল করার জন্য এখন থেকে আর আলাদা করে অনুমতির প্রয়োজন হবে না।

পরবর্তীতে আইডিএফ-এর পক্ষ থেকেও ইসমাইল খাতিবের নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। ২০২১ সাল থেকে গোয়েন্দামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা খাতিবকে লক্ষ্য করে তেহরানে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর মতে, ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয় দেশটির ‘সন্ত্রাসী শাসনের’ প্রধান গোয়েন্দা সংস্থা, যা দমন-পীড়ন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে মূল ভূমিকা পালন করে। সংস্থাটি বিশ্বজুড়ে বিশেষ করে ইসরায়েল ও ইরানি নাগরিকদের বিরুদ্ধে নজরদারি, গুপ্তচরবৃত্তি এবং গোপন অভিযান পরিচালনা করে থাকে।

আইডিএফ দাবি করেছে, ২০২২-২৩ সালে মাহসা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বিক্ষোভসহ সাম্প্রতিক বিভিন্ন আন্দোলনে বিক্ষোভকারীদের গ্রেফতার ও হত্যার পেছনে খাতিবের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এ ছাড়া বর্তমান যুদ্ধ চলাকালীন বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলি ও মার্কিন লক্ষ্যবস্তু এবং ইসরায়েলের ভেতরে বিভিন্ন হামলার নেপথ্যেও তিনি কাজ করেছেন।

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল