পারস্য নববর্ষ নওরোজ

যুদ্ধের মধ্যেও তেহরানের সড়কে ব্যস্ততা, উৎসবের আবহ

ইরানের রাজধানী তেহরান, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা যুদ্ধের বিভীষিকা যেখানে নিত্যসঙ্গী, সেখানেই বৃহস্পতিবার দেখা গেলো এক ভিন্ন চিত্র। পারস্য নববর্ষ নওরোজ-কে সামনে রেখে দীর্ঘ সময় পর শহরটির সড়কে ফিরেছে সেই চিরচেনা যানজট আর ব্যস্ততা।

শুক্রবার থেকে শুরু হতে যাওয়া নওরোজ উৎসবকে কেন্দ্র করে তেহরানের বাসিন্দারা ঘর থেকে বেরিয়েছেন। বাদাম ও শুকনো ফলের দোকানে দেখা গেছে দীর্ঘ সারি। কেউবা কিনছেন রঙিন ফুল, কেউ ব্যস্ত পরিবারের জন্য নতুন পোশাক কেনায়। সাধারণত নওরোজের এই সময়ে ইরানি পরিবারগুলো একত্র হয়ে উৎসবে মেতে ওঠে।

তেহরানের দীর্ঘদিনের যুদ্ধকালীন নিস্তব্ধতা ভেঙে বৃহস্পতিবার রাজপথের এই কর্মচঞ্চলতা ছিল চোখে পড়ার মতো। দুই সন্তানের জননী ৩৭ বছর বয়সী মিনা সাবুরি বলেন, এটি বছরে একবারের রীতি। দেশে যুদ্ধের পরিস্থিতি থাকা সত্ত্বেও আমাদের প্রিয়জনদের সঙ্গে একত্র হতে হবে। আমি চাই যুদ্ধ না থাকুক, কিন্তু তাই বলে আমাদের জাতীয় ঐতিহ্য তো ভুলে যেতে পারি না।

সম্প্রতি তেহরান বারবার বড় ধরনের বিমান হামলার শিকার হলেও বৃহস্পতিবার হামলার তীব্রতা ছিল লক্ষণীয়ভাবে কম। এই সুযোগেই মানুষ শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় ভিড় জমিয়েছেন।

একটি শোরুমে শিশুদের রঙিন পোশাকের দিকে তাকিয়ে ছিলেন ২৯ বছর বয়সী ফাতেমা কামালি। যুদ্ধের ডামাডোল আর আকাশছোঁয়া দামের প্রভাব তার কথায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ফাতেমা বলেন, যুদ্ধের কারণে জিনিসপত্রের দাম অনেক বেশি। তাই এই নওরোজে নিজের জন্য কোনও পোশাক কিনিনি। শুধু আমার আট বছরের মেয়ের জন্য কিছু জামাকাপড় কিনেছি, যাতে ও একটু খুশি থাকে।

সূত্র: এপি