এটি শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন, যুদ্ধ বন্ধের আলোচনার পর ট্রাম্পের দাবি

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে সম্ভাব্য আলোচনা শুরুর ঘোষণার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, দেশটিতে ‘শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন’ ঘটছে। সোমবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন। তবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী সংশ্লিষ্ট দুটি বার্তা সংস্থা যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কোনও ধরনের আলোচনার কথা প্রত্যাখ্যান করেছে।

ট্রাম্পের মতে, ইরানের অনেক শীর্ষ নেতা নিহত হওয়া এবং তাদের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার ঘটনাপ্রবাহ থেকেই তিনি এমন মূল্যায়ন করছেন। ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, চমৎকার বৈঠক ও আলোচনা হয়েছে। আলোচনা ছিল অত্যন্ত জোরালো। ঠিক কাদের সঙ্গে এই আলোচনা চলছে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বিস্তারিত না জানিয়ে শুধু বলেন, ‘তাদের প্রতিনিধিরা আছেন’।

ফক্স বিজনেস-কে দেওয়া অপর একটি সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, ইরান ‘খুবই মরিয়া হয়ে’ একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চায়। আগামী পাঁচ দিন বা তারও কম সময়ের মধ্যে এই চুক্তি হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি আরও জানান, গত রাতেও হোয়াইট হাউসের শীর্ষ দূত জ্যারেড কুশনার এবং স্টিভ উইটকফের নেতৃত্বে ইরানের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

যুদ্ধের উত্তেজনায় টালমাটাল বাজার পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং জ্বালানি তেলের দাম কমিয়ে আনতেই ট্রাম্প ফক্স বিজনেস ও সিএনবিসি-র মতো শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়িক সংবাদমাধ্যমগুলোতে এই সাক্ষাৎকার দিয়েছেন।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর সাংবাদিক বারাক রাভিদ এই নাটকীয় ঘোষণার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জানান, হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলার যে আলটিমেটাম ট্রাম্প দিয়েছিলেন, তা আপাতত ৫ দিনের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। আজই সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা ছিল।

রাভিদ জানান, সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে মিসর, পাকিস্তান ও তুরস্ক পরিস্থিতি সামাল দিতে মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালিয়েছে। দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলেছেন। তাঁদের আলোচনায় শুধু হরমুজ প্রণালীর সমাধান নয়, বরং যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধের বিষয়টিও উঠে এসেছে।

শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প তার আলটিমেটাম পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত করতে রাজি হয়েছেন। তবে রাভিদ সতর্ক করে বলেছেন, এর মানে এই নয় যে কোনও চূড়ান্ত চুক্তি হয়ে গেছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনও আলোচনার কথা প্রত্যাখ্যান করার খবর জানিয়েছে ইরানের দুটি আধা সরকারি বার্তা সংস্থা। এই দুটি বার্তা সংস্থা বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

ফার্স ও তাসনিম বার্তা সংস্থার খবরে দাবি করা হয়েছে, ইরানের হুমকির কারণে ট্রাম্প পিছু হটতে বাধ্য হয়েছেন।

তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে কিছু মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে তেহরানের কাছে বার্তা পাঠানো হয়েছে, কিন্তু ইরানের স্পষ্ট জবাব ছিল যে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধের মাত্রা অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত এর প্রতিরক্ষা অব্যাহত রাখবে।

সূত্র: এপি, টাইমস অব ইসরায়েল