ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ অবসানে নাটকীয় মোড় নিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের ২০ শতাংশ যে পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, সেই কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র ‘যৌথভাবে’ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন তিনি। মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এ খবর জানিয়েছে।
সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, এই জলপথটি যৌথ নিয়ন্ত্রণে থাকবে। তিনি বলেন, ‘হয়তো আমি, আর হয়তো আয়াতুল্লাহ, যিনি এখন আয়াতুল্লাহর (ইরানের সর্বোচ্চ নেতা) দায়িত্বে আছেন, আমরা দুজনে এটি নিয়ন্ত্রণ করব।’ ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা চলছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে তেহরানের জন্য একটি বড় ধরনের ছাড় হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। কারণ, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের প্রভাবকে স্বীকৃতি দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নীতির পরিপন্থি। অথচ গত সপ্তাহেও ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন যে, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো গুড়িয়ে দেওয়া হবে। সেই অবস্থান থেকে সরে এসে এখন তিনি বলছেন, যুদ্ধ বন্ধে দুই দেশের মধ্যে ‘খুব ভালো এবং ফলপ্রসূ কথোপকথন’ চলছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে। সামরিক শক্তি ব্যবহার করে ইরান এই জলপথে নিজস্ব নিয়ম চালু করেছে। যুদ্ধের পর থেকে এই অঞ্চলে অন্তত ১৭টি জাহাজে হামলা হয়েছে। ফলে পশ্চিমা বীমা কোম্পানিগুলো উচ্চ প্রিমিয়াম দাবি করায় এবং নাবিকদের নিরাপত্তার ঝুঁকি থাকায় খুব কম সংখ্যক জাহাজ মালিকই এখন এই পথ ব্যবহার করতে চাইছেন।
লয়েডস লিস্ট-এর তথ্য অনুযায়ী, ইরান তার জলসীমায় কার্যত একটি নিরাপদ শিপিং করিডোর তৈরি করেছে। ভারত, পাকিস্তান, ইরাক, মালয়েশিয়া ও চীনের মতো দেশগুলো এই পথ ব্যবহারের জন্য তেহরানের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে। এমনকি জাহাজ পার করে দেওয়ার বিনিময়ে ইরান ২০ লাখ ডলার নিয়েছে বলেও খবর পাওয়া গেছে। সিএনএন জানিয়েছে, যেসব জাহাজ চীনা মুদ্রা ইউয়ানে জ্বালানি কেনে, তাদের নিরাপদ চলাচলের প্রস্তাব দিয়েছে ইরান।
আঞ্চলিক কূটনীতিকরা বলছেন, ইয়েমেনের হুথিরা লোহিত সাগরে যে কৌশল নিয়েছিল, ইরান এখন হরমুজ প্রণালিতে তার চেয়েও উন্নত ও কার্যকর কৌশল প্রয়োগ করছে। শিপিং বিশ্লেষক মিশেল উইজ বোকম্যান বলেন, ইরানিরা হুথিদের রণকৌশল অনুসরণ করছে এবং এটি পশ্চিমা জাহাজগুলোকে এই এলাকা থেকে দূরে রাখতে দারুণ কাজ করছে।
এদিকে, জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে সমুদ্রে থাকা ইরানি তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। একে তেহরানের জন্য এক বিশাল অর্থনৈতিক সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যদিও ইরান কোনও সরাসরি ‘সংলাপের’ কথা অস্বীকার করে বলেছে যে, আঞ্চলিক দেশগুলো উত্তেজনা কমাতে কাজ করছে, তবে ট্রাম্পের এই ‘যৌথ নিয়ন্ত্রণের’ প্রস্তাবকে তেহরান ইতিবাচক হিসেবেই দেখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।