ফুরিয়ে আসছে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত, কতটা সংকটে পড়বে যুক্তরাষ্ট্র?

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর প্রায় এক মাস হতে চললো। এর মধ্যেই পেন্টাগনে বাজছে বিপদ সংকেত। খবর পাওয়া যাচ্ছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের অত্যন্ত মূল্যবান টমাহক ক্রুজ মিসাইল এবং ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের মজুত প্রায় শেষ করে ফেলছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানা গেছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের মাত্র চার সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ৮৫০টিরও বেশি টমাহক ক্রুজ মিসাইল ছুড়েছে। অথচ বছরে মাত্র কয়েকশত টমাহক তৈরি করা সম্ভব। পেন্টাগন জনসমক্ষে তাদের অস্ত্রের সঠিক সংখ্যা প্রকাশ না করলেও এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে এখন টমাহকের মজুত ‘উদ্বেগজনকভাবে কম’।

টমাহক মিসাইল এক হাজার মাইলেরও বেশি দূরে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম। এতে মার্কিন পাইলটদের ইরানের বিপজ্জনক আকাশসীমায় না পাঠিয়েই দূর থেকে আক্রমণ চালানো যায়। কিন্তু এই মিসাইলের মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসায় জল্পনা বাড়ছে যে আকাশপথে হামলা চালিয়ে এবং শীর্ষ নেতাদের হত্যা করেও ইরান সরকারকে টলানো না গেলে যুক্তরাষ্ট্র কি তবে এবার সরাসরি স্থলযুদ্ধের পথে হাঁটবে?

ব্রিটিশ নিরাপত্তা থিঙ্ক ট্যাঙ্ক আরইউএসআই প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রথম ১৬ দিনেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনী ১১ হাজার ২৯৪টি বিভিন্ন ধরনের গোলাবারুদ ব্যবহার করেছে, যার আনুমানিক খরচ প্রায় ২৬ বিলিয়ন ডলার। মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, দূরপাল্লার ইন্টারসেপ্টর এবং নিখুঁত নিশানার অস্ত্রগুলো এখন ফুরিয়ে আসার পথে।

আরইউএসআই আরও জানিয়েছে, এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত ব্যবহৃত পাঁচ শতাধিক টমাহক মিসাইলের অভাব পূরণ করতেই অন্তত পাঁচ বছর সময় লেগে যাবে।

পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক যে মার্কিন যুদ্ধ সচিব পিট হেগসেথ ব্যক্তিগতভাবে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত অস্ত্র সরবরাহের জন্য তাগিদ দিয়েছেন।

ইরানি রেড ক্রিসেন্টের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ইরানে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৯০০ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং অন্তত ২০ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। যুদ্ধের শুরুর দিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনিকে হত্যা করা হলেও ইরান সরকারকে পুরোপুরি কুপোকাত করা সম্ভব হয়নি। উল্টো ইরানের পাল্টা হামলায় পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে।

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তার সরকার যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় রয়েছে। এমনকি বৃহস্পতিবার তিনি ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালানোর পরিকল্পনা সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘোষণা দেন। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই আলোচনা ‘খুব ভালো’ চলছে বলে ট্রাম্প দাবি করলেও তেহরান তা সরাসরি অস্বীকার করেছে।

ইরান কোনও ধরনের আলোচনার কথা অস্বীকার করার পাশাপাশি যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের দেওয়া ১৫ দফা প্রস্তাবও নাকচ করে দিয়েছে। একদিকে অস্ত্রের ভয়াবহ সংকট, অন্যদিকে কূটনীতিতে অচলাবস্থা, সব মিলিয়ে হোয়াইট হাউজ এখন এক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি।