ইরান আমাদের প্রতিনিধি নয়: লেবাননের প্রধানমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে লেবানন অন্তর্ভুক্ত কিনা, তা নিয়ে চরম ধোঁয়াশার মাঝে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বৈরুত। লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম জানিয়ে দিয়েছেন, লেবাননের পক্ষে অন্য কোন দেশ বা শক্তির দরকষাকষির সুযোগ নেই; একমাত্র লেবানন রাষ্ট্রই তার ভূখণ্ডে শান্তি নিয়ে আলোচনার অধিকার রাখে। মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সংবাদমাধ্যম আল-মনিটর এ খবর জানিয়েছে।

বৈরুতে মন্ত্রিসভার এক বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেকোনও আলোচনা একমাত্র লেবানন রাষ্ট্রের মাধ্যমেই পরিচালিত হতে হবে।’ একই সঙ্গে তিনি লেবাননের সেনাবাহিনীকে বৈরুতে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ জোরদার করার এবং অস্ত্র কেবল বৈধ নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে থাকা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।

সম্প্রতি ইরান দাবি করে আসছিল যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হতে হবে লেবানন। ইরানের এই দাবির মুখে নাওয়াফ সালাম বুধবার জানিয়েছিলেন, কেউ লেবাননের মুখপাত্র হতে পারে না। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও কঠোর ভাষায় বলেছিল, ‘লেবাননের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে কেউ প্রতিনিধি সেজে আলোচনার অধিকার রাখে না।’

ফ্যালাঞ্জিস্ট পার্টির সংসদ সদস্য নাদিম জেমায়েল আরও কঠোর ভাষায় বলেছিলেন, ‘লেবানন কারও দাবার ঘুঁটি নয়। লেবানন ইরানের অংশ নয় এবং কোনোদিন হবেও না।’ তিনি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের আলোচনা থেকে লেবানন ইস্যুকে আলাদা রাখার আহ্বান জানান।

বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন। তবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও হোয়াইট হাউজ স্পষ্ট করেছে যে এই চুক্তিতে লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়। এর কয়েক ঘণ্টা পরই লেবাননজুড়ে ইতিহাসের ভয়াবহতম হামলা চালায় ইসরায়েল। মাত্র ১০ মিনিটে ১০০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে তারা।

তথ্যমন্ত্রী পল মোরকোস জানিয়েছেন, ওই হামলায় অন্তত ২০৩ জন নিহত এবং ১০৭২ জন আহত হয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৩৩ জন। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বৈরুতে হিজবুল্লাহ নেতা নাঈম কাসেমের ব্যক্তিগত সচিব ও ভাগ্নে আলী ইউসুফ হার্শিকে হত্যার দাবি করেছে। এর জবাবে হিজবুল্লাহও উত্তর ইসরায়েলে রকেট হামলা চালিয়েছে।