ফিলিস্তিনের জেরুজালেমের ওল্ড সিটিতে অবস্থিত পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে নিজেকে ‘মালিক’ বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন গভির। রবিবার আল-আকসা পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এই বিতর্কিত মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে সেখানে ইহুদি উপাসনাকারীদের জন্য আরও বেশি সুযোগ-সুবিধার দাবি জানান তিনি। মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এ খবর জানিয়েছে।
টানা ৪০ দিনেরও বেশি সময় বন্ধ রাখার পর গত সপ্তাহে ফিলিস্তিনিদের জন্য আল-আকসা প্রাঙ্গণ খুলে দেয় ইসরায়েল। এর কয়েক দিন পরই সেখানে অভিযানে যান বেন গভির। তার কার্যালয় থেকে প্রচারিত একটি ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আজ নিজেকে এখানে মালিক মনে হচ্ছে। এখনও অনেক কিছু করার বাকি, আরও উন্নতির সুযোগ আছে। আমি প্রধানমন্ত্রীকে (বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু) আরও বেশি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য চাপ দিয়ে যাচ্ছি। আমাদের আরও উচ্চতায় উঠতে হবে।’
বেন গভিরের এই মন্তব্যের মূল লক্ষ্য হলো আল-আকসায় ইহুদিদের উপস্থিতি বৃদ্ধি করা এবং ফিলিস্তিনিদের প্রবেশাধিকার সীমিত করা। উল্লেখ্য, নজিরবিহীন দীর্ঘ ৪৩ দিন বন্ধ থাকায় ফিলিস্তিনিরা রমজান, ঈদুল ফিতর এবং জুমার নামাজে অংশ নিতে পারেননি।
কয়েক দশকের পুরনো আন্তর্জাতিক স্থিতাবস্থা অনুযায়ী, আল-আকসা একটি ইসলামি পবিত্র স্থান হিসেবে স্বীকৃত। এই নিয়ম অনুসারে ইহুদিরা সেখানে পরিদর্শনে যেতে পারলেও কোনও প্রার্থনা করতে পারবেন না। কিন্তু ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরেই এই নিয়ম লঙ্ঘন করে ফিলিস্তিনিদের অনুমতি ছাড়াই সেখানে কট্টরপন্থি ইহুদিদের প্রার্থনার সুযোগ দিচ্ছে।
যদিও ইসরায়েলের প্রধান পুরোহিতরা অনেক আগে থেকেই আল-আকসায় ইহুদিদের প্রার্থনা নিষিদ্ধ করে রেখেছেন। কিন্তু বেন গভিরের মতো মন্ত্রীদের মদদে উগ্রপন্থিরা সেখানে নিয়মিত হানা দিচ্ছে। বেন গভিরের মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই মন্ত্রী সেখানে ইহুদিদের জন্য আরও বেশি প্রবেশের অনুমতি ও প্রার্থনা পাসের চেষ্টা করছেন। এমনকি বেন গভির সেখানে নিজেও প্রার্থনা করেছেন বলে জানান তিনি।
পবিত্র এই স্থানের জিম্মাদার জর্ডান বলেছে, বেন গভিরের এই সফর স্থিতাবস্থা চুক্তির লঙ্ঘন। জর্ডান এটিকে ‘পবিত্রতা নষ্ট করা, একটি নিন্দনীয় উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং অগ্রহণযোগ্য উস্কানি’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড ওই অঞ্চলে আরও অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে। বারবার এই ধরনের অনুপ্রবেশের ফলে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে এই আশঙ্কার জন্ম দিচ্ছে যে, ইসরায়েল হয়তো সেখানকার দীর্ঘদিনের পুরনো নিয়ম বদলে ইহুদি উপাসনাকারীদের জন্য আলাদা জায়গা বরাদ্দ করতে যাচ্ছে।