তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর কাহরামানমারাসে একটি মাধ্যমিক স্কুলে বন্দুকধারীর হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে আটজনই শিক্ষার্থী। বুধবার দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোস্তফা সিফ্টচি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
কাহরামানমারাসের ওনিকিসুবাত জেলার আইসার ক্যালিক মিডল স্কুলে স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৩০ মিনিটের দিকে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। এর আগে প্রদেশের গভর্নর মুকাররেম উনলুয়ের জানিয়েছিলেন, হামলায় অন্তত ৪ জন নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছেন। তবে পরে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ে। ঘাতক হামলাকারী ওই স্কুলেরই অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী। দুই শ্রেণিকক্ষে ঢুকে নির্বিচারে গুলি চালানোর পর বিশৃঙ্খলার সুযোগে সে নিজেও আত্মহত্যা করে।
গভর্নর উনলুয়ের জানান, হামলাকারী মূলত পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছিল। তার কাছে পাঁচটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং সাতটি ম্যাগাজিন ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, ব্যবহৃত অস্ত্রগুলো তার বাবা উগুর মেরসিনলির। তিনি একজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা। এই ঘটনায় পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়েছে।
তুরস্কের বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেক এই ঘটনার তদন্ত ঘোষণা করেছেন। বিচারমন্ত্রী গুরলেক জানিয়েছেন, তদন্তের গোপনীয়তা বজায় রাখতে সংবাদমাধ্যমগুলোর ওপর সাময়িক প্রকাশনা নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, তুরস্কের স্কুলে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে এটি দ্বিতীয় হামলার ঘটনা। এর মাত্র একদিন আগে দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় সানলিউরফা প্রদেশের সিভরেক জেলায় একটি স্কুলে হামলা চালিয়ে ১৬ জনকে আহত করেছিল এক সাবেক শিক্ষার্থী। সেই হামলাকারীও শটগান নিয়ে তাণ্ডব চালানোর পর নিজে আত্মহত্যা করেছিল।
সূত্র: সিনহুয়া