যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের অবস্থান আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে মনে করছেন লন্ডনের কিংস কলেজের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিষয়ক প্রভাষক রব গিস্ট পিনফোল্ড। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে তিনি বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই ক্রমাগত অশান্ত ও উত্তাল পরিস্থিতির কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তি সম্পন্ন করা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে।
সাক্ষাৎকারে পিনফোল্ড বলেন, ইরানে একটি শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে, তবে এটি ঠিক সেই পরিবর্তন নয়, যা ট্রাম্প প্রশাসন চেয়েছিল।
এই নিরাপত্তা বিশ্লেষক স্পষ্ট করে বলেন, সম্প্রতি আমরা ইরানের অভ্যন্তরে এমন কিছু কট্টরপন্থির উত্থান দেখেছি, যারা যেকোনও ধরনের ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত। তারা আগের চেয়ে অনেক বেশি যুদ্ধংদেহী এবং কৌশলগুলো নিজেরাই নির্ধারণ করতে চান। উদাহরণস্বরূপ, হিজবুল্লাহর সুরক্ষায় সম্প্রতি ইসরায়েলের ওপর ইরানের চালানো সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলাগুলোর কথাই ধরা যাক।
পিনফোল্ডের মতে, সর্বশেষ এই সংঘাতের পর দরকষাকষির টেবিলে ইরানের হাত আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী হয়েছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মূলত এই আশায় যুদ্ধে নেমেছিল যে তারা ইরানকে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্প এবং সেই সাথে আঞ্চলিক সহযোগী ও প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগের বিষয়ে নতি স্বীকার করাতে বাধ্য করতে পারবে।
তবে যুদ্ধের ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হিতে বিপরীত হয়েছে উল্লেখ করে রব গিস্ট পিনফোল্ড বলেন, এই যুদ্ধ তেহরানকে দমানো তো দূরের কথা, উল্টো আলোচনার টেবিলে থাকা অমীমাংসিত জটিল বিষয়গুলোর তালিকায় এখন হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার মতো নতুন ও স্পর্শকাতর সংকটকে যুক্ত করেছে।