জ্বালানি ও জলবায়ুতে ইরান যুদ্ধের ‘আফটারশক’

ইরান যুদ্ধ ১০০ দিন পার করার পর বিশ্বজুড়ে এর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। এই যুদ্ধ মূলত বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার গতিপ্রকৃতিতে বড় ধরনের ওলটপালট ঘটিয়ে দিচ্ছে। সামগ্রিক চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, স্বল্পমেয়াদে বিশ্বজুড়ে তেলের ব্যবহার কমে গেছে, জাতিসংঘ জলবায়ু কর্মকর্তারা এই সংকটকে কাজে লাগিয়ে পরিবেশবান্ধব পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ওপর জোর দিচ্ছেন এবং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে কয়লার ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

মার্কিন জ্বালানি বিভাগের তথ্য বিশ্লেষণী শাখা জানিয়েছে, চলমান যুদ্ধের প্রভাবে চলতি বছর বিশ্বব্যাপী তেলের ব্যবহার দৈনিক ১১ লাখ ব্যারেল কমে যেতে পারে। তবে আগামী বছর এই চাহিদা আবারও আগের জায়গায় ফিরে আসবে।

মঙ্গলবার প্রকাশিত এক পূর্বাভাসে মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইআইএ) জানিয়েছে, জ্বালানির উচ্চ মূল্য, অপর্যাপ্ত সরবরাহ এবং বিভিন্ন দেশের সরকারের নানামুখী উদ্যোগের কারণে তেলের সামগ্রিক চাহিদা কমে গেছে।

তবে তেলের উচ্চ মূল্যের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে তেল উৎপাদন বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। তাদের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর দৈনিক তেলের উৎপাদন যেখানে ১ কোটি ৩৭ লাখ ব্যারেল রয়েছে, আগামী বছর তা বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ১ কোটি ৪২ লাখ ব্যারেলে।

উল্লেখ্য, যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগের পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল ২০২৭ সাল নাগাদ এই উৎপাদন কমে ১ কোটি ৩৩ লাখ ব্যারেলে নেমে আসবে।

চলতি সপ্তাহে জার্মানির বনে চলমান জাতিসংঘের মধ্যবর্তী জলবায়ু আলোচনায় অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পেছনে এই যুদ্ধকালীন সংকটকেই মূল কারণ হিসেবে দেখছেন। আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতিসংঘের বার্ষিক জলবায়ু সম্মেলন ‘কপ৩১’-এর আয়োজক দেশ তুরস্ক মঙ্গলবার কিছু নতুন উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে অন্যতম লক্ষ্য হলো, ২০৩৫ সালের মধ্যে মোট বৈশ্বিক জ্বালানি চাহিদার ৩৫ শতাংশই যেন বিদ্যুৎ থেকে মেটানো সম্ভব হয়।

জাতিসংঘের শীর্ষ জলবায়ু কর্মকর্তা সাইমন স্টিল এক বিবৃতিতে এই উদ্যোগগুলোর পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, “বর্তমানে জীবাশ্ম জ্বালানির উচ্চ মূল্যের কারণে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা বেশ ‘বেদনাদায়কভাবেই’ এই ধরনের প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তা প্রমাণ করছে।”

পরামর্শক প্রতিষ্ঠান রাইস্ট্যাড এনার্জি-র নতুন এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কয়লার ব্যবহারে একটি স্বল্পমেয়াদী বড় ধরনের উত্থান দেখা গেছে। কাতারের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) খাতে সরবরাহ বিপর্যয় এবং এর উচ্চ মূল্যের কারণে এই অঞ্চলে কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণকারী প্রধান জ্বালানি কয়লার ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে।

অবশ্য বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, কয়লার ব্যবহার সাময়িকভাবে বৃদ্ধি পেলেও এই যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং তা সংরক্ষণের ব্যবস্থা গড়ে তোলার গতি আরও ত্বরান্বিত হবে।

সূত্র: অ্যাক্সিওস