ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের কিছু সামরিক ঘাঁটি ইসরায়েলে সরিয়ে নেওয়ার কথা বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র বাহরাইনে অবস্থিত তাদের সামরিক ঘাঁটি পুনর্গঠন এবং কুয়েত ও সৌদি আরবে তাদের উপস্থিতি কমিয়ে আনার কথা ভাবছে। প্রতিবেদনে উদ্ধৃত দুজন কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন, মার্কিন প্রশাসন তাদের কিছু ঘাঁটি ইসরায়েলে স্থানান্তর করতে পারে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরু হওয়ার পর জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে পাল্টা আঘাত হানে ইরান। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিক থেকে জুন মাস পর্যন্ত বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌঘাঁটিটি বারবার হামলার শিকার হয়েছে। এতে ঘাঁটিটির কমান্ড হেডকোয়ার্টার্স এবং অন্তত এক ডজন অন্যান্য ভবনসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে পেন্টাগন এখনও এই ধ্বংসযজ্ঞের প্রকৃত মাত্রা বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি।
এদিকে, ইরানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর ইরান যুদ্ধের বিষয়ে মার্কিন জনগণের মনোভাবে তীব্র পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। এই চুক্তির আওতায় যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধের শর্তাবলি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আলোচনা করার সময়ে আগামী ৬০ দিনের জন্য সব ধরনের শত্রুতা ও লড়াই বন্ধ থাকবে।
কুইনিপিয়াক ইউনিভার্সিটির একটি জাতীয় জরিপ অনুযায়ী, ৬০ শতাংশ মার্কিন ভোটার মনে করেন ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক অভিযান ‘যৌক্তিক ছিল না’।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সঙ্গে নিয়ে ‘ইরানি শাসকগোষ্ঠীর আসন্ন হুমকি দূর করতে’ ইরানের বিরুদ্ধে এই যৌথ যুদ্ধ শুরু করেছিলেন। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং সামরিক অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস করাই ছিল তাদের ঘোষিত প্রাথমিক লক্ষ্যগুলোর অন্যতম।
তবে নতুন জরিপটি দেখাচ্ছে, পরবর্তী সময়ে হওয়া এই চুক্তিটি প্রাথমিক লক্ষ্য অর্জনে যুক্তরাষ্ট্রের সক্ষমতার প্রতি জনমানুষের ধারণাকে দুর্বল করে দিয়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৬১ শতাংশ মানুষ বিশ্বাস করেন যে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করার সম্ভাবনা এখনও রয়ে গেছে। এ বিষয়ে ডেমোক্র্যাট এবং রিপাবলিকান শিবিরের মধ্যেই তেমন কোনও মতভেদ নেই। দুই রাজনৈতিক দলেরই অধিকাংশ সমর্থক বিশ্বাস করেন, ইরানের পক্ষে এখনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করার সম্ভাবনা ‘খুব বেশি’ অথবা ‘কিছুটা’ রয়ে গেছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই