খামেনির শেষ বিদায়ে তেহরানে কারা, আমন্ত্রণ পাননি যারা

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির বিদায়ী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে শুক্রবার থেকেই তেহরানে সমবেত হতে শুরু করেছেন বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা। ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ক উপমন্ত্রী এবং খামেনির শেষকৃত্য কমিটির প্রধান আলি আকবর পুরজামশিদিয়ান জানিয়েছেন, আজ তেহরানে বিদেশি নেতা, কর্মকর্তা ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতির মধ্য দিয়ে এই আনুষ্ঠানিকতা শুরু হচ্ছে।

আগামী ৪ থেকে ৮ জুলাই ইরান ও ইরাকের বেশ কয়েকটি পবিত্র শিয়া নগরীতে খামেনির শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা চলবে। এরপর ৯ জুলাই তার নিজ শহর মাশহাদে চূড়ান্ত দাফন সম্পন্ন হবে। তেহরানের রাষ্ট্রীয় শোকসভার মূল কেন্দ্র আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি মোসাল্লা মসজিদে এই আন্তর্জাতিক বিদায় অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তেহরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ইতোমধ্যে বিশ্বের ৩০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিদল এবং ৯০ জনেরও বেশি ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব এই অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

কারা তেহরানে

খামেনির শেষকৃত্যে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকার-প্রধানরা অংশ নিচ্ছেন। ইরাকের প্রেসিডেন্ট নিজার আমিদি এবং প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি এই অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। ইরানের পাশাপাশি ইরাকেও শোক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। আগামী ৮ জুন খামেনির মরদেহ একদিনের জন্য ইরাকের পবিত্র নগরী নাজাফ ও কারবালায় নিয়ে যাওয়া হবে।

এছাড়া জর্জিয়ার প্রেসিডেন্ট মিখাইল কাভেলাশভিলি, তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রাহমন ও আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান ইতোমধ্যে তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছেন। পাশিনিয়ান নিজেই একদিন আগে বলেছেন, ‘হ্যাঁ, আমি আগামীকাল যাবো এবং আগামীকালই ফিরে আসবো। অবশ্যই ইরানের নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগের পরিকল্পনা রয়েছে।’

তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান সংকটে প্রধান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও তেহরানে যাচ্ছেন। তার সঙ্গে থাকছেন পাকিস্তানি সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির।

রাশিয়ার পক্ষে এই অনুষ্ঠানে প্রতিনিধিত্ব করবেন দেশটির নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদেভ, যা ক্রেমলিন ও তার সচিবালয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে। চীন তাদের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান (সংসদের ডেপুটি স্পিকার) হে উই-কে পাঠাচ্ছে। আজারবাইজানের পক্ষ থেকে মিলি মজলিসের (সংসদ) স্পিকার সাহিবা গাফারোভা, উপপ্রধানমন্ত্রী শাহিন মুস্তাফায়েভ এবং নাখচিভান স্বায়ত্তশাসিত প্রজাতন্ত্রের প্রধান জাব্বার মুসায়েভের নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধিদল অংশ নিচ্ছে।

এর পাশাপাশি কাতার, লেবানন, সিরিয়া, ভেনিজুয়েলা, বেলারুশ ও উত্তর কোরিয়ার প্রতিনিধিদলের পাশাপাশি হামাস, হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের হুথি এবং ইরাকের শিয়া গোষ্ঠীগুলোর প্রতিনিধিরা তেহরানে উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

আমন্ত্রণ পায়নি যারা

ফক্স নিউজের বরাতে জানা গেছে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ব্যক্তিগতভাবে আমন্ত্রণ জানালেও নয়াদিল্লি সেখানে তুলনামূলক ‘নিচু স্তরের প্রতিনিধি দল’ পাঠাচ্ছে। ইরানি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের এই প্রতিনিধিদলে থাকছেন পররাষ্ট্র উপমন্ত্রী পবিত্র মার্গেরিটা এবং বিহারের গভর্নর সৈয়দ আতা হাসনাইন।

অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাইয়ি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানকে সমর্থন করা দেশগুলোকে এই শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তিনি বলেন, খামেনির মৃত্যুর কারণ হওয়া হামলার নিন্দা না করায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নেতারা এই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার সম্মান অর্জন করতে পারেননি। একই কারণে যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়াকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে কড়া হুঁশিয়ারি

আন্তর্জাতিক এই সমাবেশের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী। ইরানি পুলিশ বাহিনীর কেন্দ্রীয় সদর দফতরের কমান্ডার মেজর জেনারেল আলী আব্দুল্লাহি শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে কোনও ধরনের হামলা না চালাতে আমেরিকা ও ইসরায়েলকে সতর্ক করেছেন। অন্যথায় ‘ইরানি জাতির সন্তানদের কাছ থেকে কঠোর জবাব’ দেওয়া হবে বলে তীব্র হুমকি দেন তিনি।