ইরানের বিরুদ্ধে চালানো মার্কিন বিমান হামলার জবাবে এবার কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা আঘাত হেনেছে ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরআইবি এ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বাহিনীটি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এ খবর জানিয়েছে।
আইআরজিসির নৌ ও বিমান বাহিনী জানিয়েছে, তারা যৌথভাবে কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজান ও আলী আল সালেম বিমান ঘাঁটি এবং বাহরাইনের শেখ ঈসা বিমান ঘাঁটি ও জুফায়ারসহ মার্কিন বিভিন্ন অবকাঠামো ও স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। উল্লেখ্য, জুফায়ারে মার্কিন নৌবাহিনীর প্রধান ঘাঁটি নেভাল সাপোর্ট অ্যাক্টিভিটি অবস্থিত, যা পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের প্রধান কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
আইআরআইবি-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলীয় প্রদেশসমূহ এবং পূর্বাঞ্চলের দুটি সেতুতে মার্কিন হামলার জবাবেই এই পাল্টা আঘাত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইআরজিসি।
এর আগে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাতে আইআরজিসি জানায়, তেহরানের উত্তর-পূর্বে আক্কালা এলাকার একটি রেলওয়ে সেতুতে আঘাত হেনেছে মার্কিন বাহিনী। ইরানি গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে আক্কালার কাছে ক্ষতিগ্রস্ত একটি রেলওয়ে সেতু দেখা গেছে।
তবে সেতুটির বিষয়ে মন্তব্য জানতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) সাথে সিএনএন যোগাযোগ করলেও সেন্টকম তাদের বিবৃতিতে উপকূলরেখা বরাবর ‘৯০টি ইরানি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে’ আঘাতের কথা বললেও এই সেতুর বিষয়ে কোনও উল্লেখ করেনি।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালে বাহরাইন ও কুয়েতে সম্ভাব্য হামলার সতর্কতা সংকেত হিসেবে সাইরেন বাজানো হয়। কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘শত্রুভাবাপন্ন ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনের হুমকি’ মোকাবেলা করছে।
আইআরআইবিতে প্রকাশিত বিবৃতিতে আইআরজিসি আরও সতর্ক করে দিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি আবারও কোনও পাল্টা ব্যবস্থা বা প্রতিশোধ নেওয়ার চেষ্টা করে, তবে এই অঞ্চলে থাকা অন্যান্য মার্কিন ঘাঁটিতেও তারা তাদের হামলার পরিধি আরও বিস্তার করবে।