ফাইনাল যেভাবে পরিণত হয়েছিল ইসরায়েল-ফিলিস্তিন লড়াইয়ে

বিশ্বকাপের বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেন। তবে কেবল ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বই নয়, অনেক সমর্থকের কাছে এই মেগা ফাইনালটি পরিণত হয়েছিল ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন ইস্যুতে একটি প্রক্সি লড়াইয়ে। মাঠের খেলোয়াড়দের চেয়ে দুটি দেশের রাজনীতির কারণেই এই মেরুকরণ তৈরি হয়েছে।

ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইয়ের ইসরায়েলঘেঁষা নীতির কারণে আর্জেন্টিনা কিছুটা ইসরায়েল সমর্থকদের পছন্দের শীর্ষে। ২০২৩ সালে ক্ষমতায় আসার পর একাধিকবার ইসরায়েল সফর করা মিলেই জেরুজালেমে দূতাবাস স্থানান্তরের ঘোষণাও দিয়েছেন। সম্প্রতি এক পডকাস্টে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, ‘মিলেই ইসরায়েলের একজন দুর্দান্ত বন্ধু। আমি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার জয় চাই।’

সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার জয়ের পর দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদন সার অভিনন্দন জানান। তবে সরকারি নীতির বিপরীতে আর্জেন্টিনার ৫৫ শতাংশ মানুষই ইসরায়েলের বিপক্ষে বলে নিজেদের মত জানিয়েছেন। পাশাপাশি, ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকা জয় এবং চলতি বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনার ভক্ত ও খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে ওঠা বর্ণবাদের অভিযোগ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।

অন্যদিকে, স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের বামপন্থি সরকার গাজায় ইসরায়েলি হামলার তীব্র সমালোচনা করা ও ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ায় ফিলিস্তিনপন্থিদের সমর্থন পেয়েছে স্পেন। এমনকি ইরানে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলার বিরোধিতার জন্য স্পেনের প্রশংসা করেন ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। সেমিফাইনাল জয়ের পর কেনিয়ায় নিযুক্ত ইরানি দূতাবাস স্পেনকে অভিনন্দন জানিয়ে পোস্ট করে। এ ছাড়া ২০২৬ সালে বার্সেলোনার হয়ে লা লিগা জয়ের পর তরুণ স্প্যানিশ তারকা লামিনে ইয়ামালের ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়ানোর ঘটনাও ব্যাপক প্রশংসা পায়, যা নিয়ে ফিলিস্তিনের জাতিসংঘ মিশনও পোস্ট করেছে।

গাজার আল-শাতি শরণার্থী শিবিরের ধ্বংসস্তূপে শিল্পীরা ইয়ামালের দেয়ালচিত্র এঁকেছেন। অবশ্য অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অভিবাসন ও জাতিগত বিতর্ক স্পেনেও বিদ্যমান।

আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসির ছবি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা হলেও তিনি বরাবরই রাজনৈতিক বিষয় এড়িয়ে চলেছেন। তবে ২০১৮ সালে রাজনৈতিক চাপে আর্জেন্টিনার ইসরায়েল সফর বাতিল হওয়া কিংবা ২০১৯ সালে তেল আবিবে উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার প্রসঙ্গগুলো বারবার উঠে আসে। ভক্তরা মেসির এই নীরবতার সঙ্গে ফিলিস্তিনের প্রতি স্পষ্ট সমর্থন দেওয়া প্রয়াত কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনার তুলনা টেনে থাকেন, যিনি ২০১৮ সালে মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে দেখা করে বলেছিলেন, ‘অন্তরে আমি একজন ফিলিস্তিনি।’

সূত্র: আল মনিটর