উত্তর-দক্ষিণ থেকে সমন্বিত হামলার আশঙ্কায় সৌদি আরব

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) তত্ত্বাবধানে ইরাকি মিলিশিয়া ও ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা উত্তর ও দক্ষিণ দিক থেকে সমন্বিত হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা করছে সৌদি আরব। দেশটির এক শীর্ষ কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র ও অঞ্চলের অন্যান্য দেশের গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ইঙ্গিত মিলেছে যে, বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনাগুলো হামলার লক্ষ্য হতে পারে। সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রয়েছে জ্বালানি অবকাঠামো, বন্দর ও বিমানবন্দর।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, সৌদি আরব ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র স্থানান্তরের ঘটনাও পর্যবেক্ষণ করেছে, যা উত্তর ও দক্ষিণ উভয় দিক থেকে সমন্বিত অভিযানের ইঙ্গিত দেয়।

ওই কর্মকর্তা বলেন, রিয়াদ যখন উত্তেজনা প্রশমন ও আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, তখন এসব সম্ভাব্য হুমকি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। তিনি জানান, ইরানসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ এবং মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা সঠিক পথে এগোচ্ছে। তার দাবি, পরিকল্পিত হামলার উদ্দেশ্য হতে পারে এসব কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ভণ্ডুল করা।

তিনি আরও বলেন, সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সব পর্যায়ে, বিশেষ করে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) সঙ্গে কার্যক্রম পরিচালনায় সহযোগিতা ‘খুবই উচ্চ’ পর্যায়ে রয়েছে। যেকোনও আগ্রাসনের জবাবে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে সৌদি আরব প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।

গত ২৯ জুলাই সৌদি আরব জানায়, তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলার জন্য ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করে তারা সেন্টকমের সঙ্গে যৌথভাবে ইরাকে তাদের অবস্থানে হামলা চালিয়েছে। এর জবাব দেওয়ার ঘোষণা দেয় ইরাকি মিলিশিয়ারা।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠী লোহিত সাগরে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে তাদের ভাষায় নৌ অবরোধ আরোপের ঘোষণা দিয়েছে এবং সৌদি জাহাজ ও সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে একাধিক হামলার দাবি করেছে। এর জবাবে ইয়েমেনে সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব।