গাজায় যুদ্ধবিরতি ও শান্তি বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী হামাসকে অস্ত্র সমর্পণ ও নিরস্ত্রীকরণের তাগিদ দিতে মিসরে সংগঠনটির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ও দূত জ্যারেড কুশনার। রবিবার মিসরে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্র নিশ্চিত করেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।
গত বছরের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ অবসানের চুক্তির পর হামাস নেতাদের সঙ্গে কুশনারের এটিই প্রথম বৈঠক। হোয়াইট হাউস এবং ট্রাম্পের গঠিত বোর্ড অব পিসের ২০-দফা শান্তি পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপে অগ্রসর হতে হামাস ও ইসরায়েল উভয় পক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করার অংশ হিসেবে এই বিরল বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
বৈঠকে জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে ছিলেন বোর্ড অব পিসের উচ্চ প্রতিনিধি নিকোলাই ম্লাদেনভ এবং বোর্ডের সদস্য ও যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার। হামাসের পক্ষে রাজনৈতিক নেতা খলিল আল-হাইয়া, মিসরের গোয়েন্দা প্রধান হাসান রশাদ, কাতারের কূটনীতিক আলী আল-থাওয়াদি এবং তুরস্কের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এতে অংশ নেন।
বৈঠকের উদ্দেশ্য ছিল গাজাকে নিরস্ত্রীকরণে হামাসের প্রতিশ্রুতিগুলোকে সুনির্দিষ্ট ও যাচাইযোগ্য পদক্ষেপে রূপান্তর করা। এই পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে, ফিলিস্তিনের টেকনোক্র্যাট সরকারের কাছে শাসনক্ষমতা হস্তান্তর করা এবং গাজার ভবিষ্যৎ প্রশাসনে হামাসের কোনও ভূমিকা না রাখা।
বোর্ড অব পিস চায় হামাস যেন তাদের অস্ত্র ও সামরিক অবকাঠামো নিষ্ক্রিয় করা শুরু করে, আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা বাহিনীকে (আইএসএফ) মোতায়েনের সুযোগ দেয় এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর কোনও বাধা ছাড়া ত্রাণ ও পুনর্গঠন কাজ ত্বরান্বিত করতে সহযোগিতা করে।
অন্যদিকে, হামাস অস্ত্র সংবরণ শুরু করলে ইসরায়েলকেও গাজা থেকে আনুপাতিক হারে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে এবং সেখানে মানবিক ত্রাণ সহায়তা ত্বরান্বিত করতে হবে।
সংশ্লিষ্ট এক সূত্র জানায়, এখানে কোনও অস্পষ্টতার সুযোগ নেই। হামাসকে অবশ্যই শাসনক্ষমতা, সব অস্ত্র এবং সামরিক অবকাঠামো ত্যাগ করতে হবে। গাজা যেন কখনোই ইসরায়েলের জন্য আর কোনও হুমকির কারণ না হয়ে দাঁড়ায়।
সোমবার কুশনারের ইসরায়েল সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে শান্তি চুক্তির আওতায় ইসরায়েলের পক্ষ থেকে নেওয়া পরবর্তী পদক্ষেপগুলো নিয়ে আলোচনা করবেন।