ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনারের বৈঠকে গাজায় হামাসের যেসব সদস্য ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলায় জড়িত ছিলেন, তাদের ওপর ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রাখা নিয়ে মতবিরোধ হয়েছে। সোমবারের বৈঠকে নেতানিয়াহু এসব হামলা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে অনড় থাকেন বলে বৈঠকে উপস্থিত এক কর্মকর্তা দ্য টাইমস অব ইসরায়েলকে জানিয়েছেন।
চলতি মাসের শুরুতে ইসরায়েল স্বীকার করে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলা ও নৃশংসতায় জড়িত প্রত্যেক ফিলিস্তিনি যোদ্ধাকে খুঁজে বের করে হত্যার জন্য একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে তারা।
এই অভিযান ২০২৫ সালের অক্টোবরে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতির একাধিক লঙ্ঘনের কারণ হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণাধীন বোর্ড অব পিস এ বিষয়ে কঠোর আপত্তি জানায়নি। কারণ ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দাবি করেছে, ‘হামলায় লক্ষ্যবস্তু ব্যক্তিরা ইসরায়েলি সেনাদের জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি তৈরি করেছিলেন’।
কয়েক মাস ধরে বোর্ড অব পিস হামাসকে নিরস্ত্রীকরণ প্রস্তাব মেনে নিতে রাজি করানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছিল। অবশেষে ৩০ জুলাই হামাস প্রস্তাবটি মেনে নেয়। এই পরিকল্পনা কার্যকর হলে উভয় পক্ষকে তাৎক্ষণিকভাবে সব ধরনের সামরিক অভিযান বন্ধ করতে হবে। তবে নেতানিয়াহু এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছেন এবং সোমবার কুশনারের সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি তোলেন বলে ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
কুশনার নেতানিয়াহুকে আশ্বস্ত করেন, যারা সত্যিকার অর্থে ‘তাৎক্ষণিক হুমকি’ তৈরি করে, তাদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি হামলায় তিনি আপত্তি করবেন না। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা সতর্ক করে বলেন, এই যুক্তি যেন ব্যাপকভাবে প্রয়োগ করা না হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ওই কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, বোর্ড অব পিসের প্রতিনিধিদলের হতাশা সত্ত্বেও নেতানিয়াহু ৭ অক্টোবরের হামলায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে যাওয়ার অবস্থানে অনড় থাকেন। এ বিষয়ে কোনও সমঝোতা হয়নি। বৈঠক সম্পর্কে অবগত দ্বিতীয় একটি সূত্রও ওই কর্মকর্তার বক্তব্য নিশ্চিত করেছে।
কুশনার ইসরায়েল ছাড়ার কয়েক ঘণ্টা পর আইডিএফ গাজায় কয়েক মাসের মধ্যে অন্যতম প্রাণঘাতী একটি হামলা চালায়। ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি, হামলাটি ‘হামাসের শীর্ষ নেতাদের’ একটি সমাবেশ লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এতে অন্তত ছয়জন নিহত হন, যাদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। আহত হয়েছেন ১০ জনের বেশি, তাদের মধ্যে একজন বয়স্ক নারীও ছিলেন।
বৈঠকে উপস্থিত ওই কর্মকর্তা বলেন, ৭ অক্টোবরের হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে ইসরায়েলের অবস্থান বোঝা গেলেও এসব হামলায় বেসামরিক মানুষের হতাহত হওয়া বোর্ড অব পিসের জন্য ক্রমেই উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে।
নেতানিয়াহুর এই নীতি বোর্ড অব পিসের স্থগিত হয়ে থাকা নিরস্ত্রীকরণ পরিকল্পনার পাশাপাশি গত বছরের সেপ্টেম্বরে নেতানিয়াহু যে ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন, তার সঙ্গেও সাংঘর্ষিক হতে পারে। ওই পরিকল্পনায় বলা হয়েছিল, হামাসের যেসব সদস্য ‘শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে অঙ্গীকারবদ্ধ’ হবেন এবং অস্ত্র সমর্পণ করবেন, তাদের সাধারণ ক্ষমা দেওয়া হবে।