যুক্তরাষ্ট্র ফের যুদ্ধ শুরু করলে ইউরোপে হামলার হুমকি ইরানের

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আবার যুদ্ধ বা সংঘাত শুরু হলে ইউরোপে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি বা সম্পদে আঘাত হানার কথা বিবেচনা করছে ইরান। বুধবার (১৯ আগস্ট) ব্রিটিশ গণমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে ইরানের শাসনব্যবস্থার ভেতরের সূত্রের বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন করে সংঘাত ছড়ালে বুলগেরিয়া বা সাইপ্রাসে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালাতে পারে তেহরান। এ ধরনের পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকা ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলার আওতাকে এবার ইউরোপ পর্যন্ত প্রসারিত করবে। উল্লেখ্য এই দুই দেশেই মার্কিন সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েনের সুবিধা রয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধের সময় তেহরান ভারত মহাসাগরের দক্ষিণে প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার বা ২ হাজার ৫০০ মাইল দূরে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ডিয়াগো গার্সিয়াতে সফলভাবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল। বিশ্লেষকদের মতে, এতে প্রমাণিত হয় যে ইউরোপের প্রায় যেকোনও প্রান্তে আঘাত হানার সক্ষমতা ইরানের রয়েছে। তবে এত দূরের লক্ষ্যবস্তুতে হামলার ক্ষেত্রে ক্ষেপণাস্ত্রের ওয়ারহেড বা বিস্ফোরকের আকার ছোট করতে হয়, যা সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ কিছুটা কমিয়ে দেয়। ইসরায়েলি কর্মকর্তারাও ইউরোপের প্রতি ইরানের এই হুমকি নিয়ে একাধিকবার সতর্ক করেছেন।

ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে ইরানের ভেতরের সূত্রগুলো আরও জানায়, হরমুজ প্রণালির তলদেশ দিয়ে যাওয়া ফাইবার-অপটিক ক্যাবল ক্ষতিগ্রস্ত করার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না তেহরান। তেমনটি হলে বিশ্বজুড়ে টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মক বিঘ্নিত হতে পারে।

ইরানের অভ্যন্তরীণ এক সূত্র দ্য ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, আমেরিকা আক্রমণ করলে তেহরানের প্রতিক্রিয়ার কোনও ‘সীমা বা সীমাবদ্ধতা’ থাকবে না। তিনি জানান, আমেরিকা যদি বাড়াবাড়ি করে, তবে ইরান যেকোনও মূল্যে নিজেকে রক্ষা করবে এবং অঞ্চলের সীমানা পেরিয়ে ইউরোপেও আঘাত হানবে।

দ্বিতীয় আরেক কর্মকর্তা জানান, ইরানের অবকাঠামোতে মার্কিন হামলার হুমকিই তেহরানকে এমন বিস্তৃত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করবে। জর্ডানে তিন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হওয়ার ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানার যে সক্ষমতা তেহরানের রয়েছে, এটি তারই প্রমাণ।

তিনি আরও বলেন, এটি ইউরোপের জন্য একটি বার্তা যে তাদের কাছেও ক্ষেপণাস্ত্র পৌঁছাতে পারে। তাই এই যুদ্ধে নিজেদের অবস্থান কোথায় হওয়া উচিত, তা ইউরোপের বোঝা দরকার। আমাদের কোনও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালানোর মতো বড় ভুল করা হলে এই যুদ্ধ আঞ্চলিক সীমানা ছাড়িয়ে ইউরোপেও পৌঁছে যেতে পারে।

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল