সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিমান খাতে নারী অগ্রযাত্রার এক নতুন মাইলফলক উন্মোচিত হলো। রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা ইতিহাদ এয়ারওয়েজের ক্যাপ্টেন হুদা আল মুসাল্লামি আমিরাতের প্রথম নারী পাইলট হিসেবে ট্রেনিং ক্যাপ্টেন যোগ্যতা অর্জন করেছেন। আমিরাতি নারী দিবসে ঘোষিত এই অর্জনের ফলে এখন থেকে তিনি ইতিহাদের উচ্চ নিরাপত্তা ও পেশাদার মান বজায় রেখে অন্যান্য পাইলটদের প্রশিক্ষণ ও যোগ্যতা প্রদানের দায়িত্ব পালন করবেন।
দুই দশকেরও বেশি সময় বিমান খাতে কাটিয়ে ফার্স্ট অফিসার থেকে ক্যাপ্টেন এবং পরবর্তীতে প্রশিক্ষক হিসেবে নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তুলেছেন হুদা। ২০০৩ সালে এভিয়েশন শিল্পে পা রাখা হুদা ২০১৪ সালে ইতিহাদ এয়ারওয়েজে যোগ দেন। ২০২৩ সালে তিনি ক্যাপ্টেন হন এবং ২০২৬ সালে টাইপ রেটিং ইন্সট্রাক্টর হওয়ার যোগ্যতা পান। বর্তমানে বোয়িং ৭৮৭ উড়োজাহাজ চালানোর অধিকারপ্রাপ্ত হুদার আকাশপথে ১০ হাজার ঘণ্টারও বেশি ওড়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে। এর আগে তিনি এয়ারবাস এ৩৩০, এ৩৪০ এবং বোয়িং ৭৭৭ চালনা করেছেন। এছাড়া এভিয়েশন ম্যানেজমেন্টে স্নাতক এবং বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ও ইনফরমেশন সিস্টেমে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি রয়েছে তার।
নিজের এই সাফল্য নিয়ে হুদা আল মুসাল্লামি বলেন, প্রথম হওয়ার অর্থ হলো কোনও পথ তৈরি হওয়ার আগেই এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া। যেখানে কোনও মানচিত্র থাকে না, সেখানে লক্ষ্য ঠিক রেখে চলতে হয় এবং চ্যালেঞ্জকে শক্তিতে রূপ দিতে হয়। প্রথম হওয়াটা কখনোই শুধু একটি পদের জন্য ছিল না; বরং আমার কাজ হলো নিশ্চিত করা যে, আমিই যেন শেষ না হই, যাতে আরও অনেক আমিরাতি নারী উঠে আসতে পারেন ও আরও উঁচুতে যেতে পারেন।
ট্রেনিং ক্যাপ্টেন হিসেবে নিজের নতুন ভূমিকায় ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশের ও নানা অভিজ্ঞতার পাইলটদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন হুদা। এই দায়িত্বকে তিনি পেশাগত কর্তব্যের পাশাপাশি একটি জাতীয় দায়িত্ব হিসেবে দেখছেন।
ইতিহাদ এয়ারওয়েজের চিফ পিপল, গভর্নমেন্ট অ্যান্ড কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার ড. নাদিয়া বাস্তাকি বলেন, ইতিহাদে আমরা আমিরাতি নারীদের স্বপ্নকে ডানা মেলে উড়তে সাহায্য করি। হুদার এই অর্জন পরবর্তী প্রজন্মের জন্য দিগন্ত প্রসারিত করলেন।
ইতিহাদ এয়ারওয়েজ জানিয়েছে, তাদের প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মোট আমিরাতি নাগরিকদের মধ্যে ৭৫ শতাংশই নারী, যারা ফ্লাইট ডেক থেকে শুরু করে শীর্ষ নেতৃত্ব পর্যন্ত দায়িত্ব সামলাচ্ছেন।
সূত্র: গালফ নিউজ