যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিতে ফিরলে ইরানও প্রস্তুত: পেজেশকিয়ান

কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) ২৬তম শীর্ষ সম্মেলনে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের প্রতিশ্রুতিগুলো রক্ষায় ফিরে আসে, তবে তেহরানও তাৎক্ষণিকভাবে একই পদক্ষেপ নেবে। মঙ্গলবার ইরানের প্রেসিডেন্টের দফতর থেকে এ কথা জানানো হয়েছে।

সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে পেজেশকিয়ান বলেন, আমি স্পষ্টভাবে বলছি, যুক্তরাষ্ট্র যদি এই সমঝোতা স্মারকের অধীনে তাদের প্রতিশ্রুতিগুলোতে ফিরে আসে, তবে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানও অবিলম্বে তার সমান পদেক্ষপ নেবে।

তিনি অভিযোগ করেন, স্বাক্ষরের দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে ওয়াশিংটন চুক্তিটি মেনে চলতে ব্যর্থ হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের এই চুক্তি লঙ্ঘনের কারণেই তেহরান আনুপাতিক ব্যবস্থা নিয়েছে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে তাদের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়ে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হতে বাধ্য হয়েছিল। মূলত ৪০ দিনের লড়াই এবং পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় প্রায় তিন মাসের আলোচনার পর গত জুনে এই ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিটিতে বৈরিতা নিরসন, হরমুজ প্রণালি ইস্যু এবং তেহরান-ওয়াশিংটনের মধ্যে পরবর্তী আলোচনার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল।

সংস্থার ভূমিকা জোরদার করার লক্ষ্যে পেজেশকিয়ান সম্মেলনে তিনটি পদক্ষেপের প্রস্তাব দেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে, একটি যৌথ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা, একটি রফতানি বিমা ও বিনিয়োগ ইউনিয়ন গঠন এবং একটি জ্বালানি কনসোর্টিয়াম তৈরি করা।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনার জন্য এসসিও-র ১০ সদস্য রাষ্ট্রের নেতারা এই সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন। ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই জোটে রয়েছে বেলারুশ, চীন, ভারত, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, পাকিস্তান, রাশিয়া, তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান এবং ইরান। ২০২৩ সালে ইরান জোটটির পূর্ণ সদস্যপদ লাভ করে।

সূত্র: আনাদোলু