যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ফিরতে তিন শর্ত ইরানের  

ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজাই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ফিরতে তেহরানের কিছু শর্ত রয়েছে। কাতারি ও পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। কাতারভিতত্তক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে শনিবার দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা জানান।

রেজাই বলেন, আলোচনার জন্য ইরানের শর্ত মধ্যস্থতাকারীদের জানানো হয়েছে। যুদ্ধ থেকে বের হতে এসব শর্ত মেনে নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থেই হবে। তিনি বলেন, ট্রাম্পের হুমকিতে কোনও ফল আসবে না এবং ইরান চূড়ান্ত যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত।

ইরানের শর্তগুলো হচ্ছে, সব ফ্রন্টে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধ করা, ইরানের জব্দকৃত সব সম্পদ দ্রুত ছাড় এবং নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার। যুক্তরাষ্ট্র এসব শর্ত মানলেই কেবল যুদ্ধ বন্ধ করে দুই পক্ষ আলোচনার পরবর্তী ধাপ শুরু করতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন রেজাই।

যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারক থেকে সরে যাওয়ার পর ওয়াশিংটনের সঙ্গে কৌশল পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে ইরান নিশ্চিত হয়েছে বলে জানান রেজাই। তার দাবি, ইরান নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের মূল্যায়ন ও হিসাব ভুল ছিল এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুদ্ধটি উসকে দিয়েছেন।

রেজাই বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনীর দুর্বলতাগুলো সম্পর্কে ইরান জানে এবং দেশটি এখন আগের যেকোনও সময়ের চেয়ে মার্কিন বিমান হামলা মোকাবিলায় বেশি প্রস্তুত। সম্প্রতি একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর কাছে ইরান একটি জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষাও চালিয়েছে বলে জানান তিনি।

ইরান প্রতিরক্ষার বিষয়ে গুরুতর অবস্থানে রয়েছে উল্লেখ করে রেজাই বলেন, দেশটিতে হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও ওয়াশিংটনের স্বার্থে আরও জোরালো হামলা চালাবে তেহরান।