জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দিতে বৃহস্পতিবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে পৌঁছেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে সংক্ষিপ্ত এই সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার কোনও বৈঠক হচ্ছে না।
নিরাপত্তাজনিত কারণে দক্ষিণ ইসরায়েলের একটি বিমানঘাঁটি থেকে নেতানিয়াহুকে বহনকারী উইং অব জায়ন বিমানটি নিউ ইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানায়, স্থানীয় সময় বিকালের দিকে অধিবেশনে দেওয়া নেতানিয়াহুর ভাষণে মূল ফোকাস থাকবে ইরান পরিস্থিতি, পশ্চিম তীরে সন্ত্রাসবাদ এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধ। সংক্ষিপ্ত সফর শেষে শুক্রবার সন্ধ্যায় সুকোট উৎসব শুরুর আগেই ইসরায়েলে ফিরে যাবেন তিনি।
সফরে আর্জেন্টিনা, বলিভিয়া, প্যারাগুয়ে, পানামা, গ্রিস ও সলোভেনিয়ার রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রধানমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকের কথা থাকলেও মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে কিছু জানা যায়নি। বিশেষ করে ট্রাম্পের সঙ্গে কোনও বৈঠক না হওয়াকে রাজনৈতিক দূরত্ব হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা চালানোর পর মার্কিন-ইরান মধ্যবর্তী যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে কেন্দ্র করে ট্রাম্পের সঙ্গে নেতানিয়াহুর মতপার্থক্য তৈরি হয়।
ইসরায়েলি পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক থিংক ট্যাংক মিতভিম-এর প্রধান নিমরোদ গোরেন বলেন, ইসরায়েলে নির্বাচনের এক মাস আগে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক না হওয়া এটাই ইঙ্গিত করে যে ট্রাম্প তার থেকে দূরত্ব বজায় রাখছেন। এটি নেতানিয়াহুর নির্বাচনি প্রচারের জন্য নেতিবাচক হতে পারে।
ইসরায়েলের সাবেক রাষ্ট্রদূত মাইকেল ওরেন মন্তব্য করেন, নেতানিয়াহু আসলে জাতিসংঘের উদ্দেশে নয়, ইসরায়েলি জনগণের উদ্দেশে কথা বলছেন এবং তার বক্তব্যটি একটি নির্বাচনি ভাষণের মতো হবে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) থেকে জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানা এবং যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডার সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে কূটনৈতিক চাপের মুখে পড়া নেতানিয়াহু আগামী ২৭ অক্টোবরের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখেই নিজের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছেন।
এদিকে সফরকালে নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির সমালোচনার কঠোর জবাব দিতে পারেন নেতানিয়াহু। এর আগে ভিডিও বার্তায় তিনি অভিযোগ করেছিলেন, মেয়রের উক্তি যুদ্ধাপরাধের অভিযোগকে উসকে দেয়। পাল্টা জবাবে মামদানি নেতানিয়াহুকে ‘ফিলিস্তিনিদের ওপর ভয়াবহ গণহত্যার স্থপতি’ বলে অভিহিত করেন।
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল