ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের দফায় দফায় হামলার মুখে পড়া সৌদি আরবের সুরক্ষায় সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে তুরস্ক ও পাকিস্তান। তিন দেশের সামরিক প্রধানরা শিগগিরই এ বিষয়ে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। অন্যদিকে মার্কিন চাপে শুক্রবার ইরানগামী ও সেখান থেকে আসা সব ফ্লাইট স্থগিত করেছে ইরাক। এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিবেশীদের প্রতি সরাসরি পাল্টা প্রতিশোধের হুমকি দিয়েছে তেহরান।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যে বড় ধরনের সংঘাতের সূচনা হয়, তার অংশ হিসেবেই ইয়েমেনের সৌদি সমর্থিত সরকার ও সরাসরি সৌদি আরবের অভ্যন্তরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে হুথিরা। এতে বিশ্ববাজারে শীর্ষ জ্বালানি রফতানিকারক দেশটির তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে।
জাতিসংঘ অধিবেশনে নতুন করে কূটনৈতিক সমাধানের প্রচেষ্টা চালানো হলেও তা স্থবির হয়ে পড়েছে। সরাসরি সামরিক আক্রমণের পাশাপাশি ওয়াশিংটন এখন ইরানি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে লেনদেন করা তৃতীয় বিশ্বের বিভিন্ন কোম্পানির ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করে আর্থিক অবরোধ জোরদার করার পথ বেছে নিয়েছে। নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়ায় বৃহস্পতিবার সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান ইরানি বিমান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেয়। শুক্রবার বাগদাদের পর ইরাকের বাকি তিনটি বিমানবন্দরও ইরানি বিমান পরিচালনা বন্ধ করে।
ইরাকের এই পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোখবের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, আঞ্চলিক দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান যদি বিমান পরিচালনা ও বিমানবন্দর পরিষেবা পাওয়ার সুযোগ না পায়, তবে এই অঞ্চলের কোনও দেশই এই সুযোগ পাবে না।
এদিকে আগস্টে স্বাক্ষরিত মক্কা প্যাক্ট বা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠকে বসেছেন। চুক্তির বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী, কোনও এক দেশের ওপর হামলা সব সদস্যের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য হবে। এই চুক্তির ভিত্তিতেই শুক্রবার সৌদি আরব সফরে গিয়ে সৌদি ও পাকিস্তানি সমকক্ষদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসার কথা জানিয়েছে তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতিও হুথিদের ক্ষমতাচ্যুত না করা পর্যন্ত জীবন বাজি রেখে লড়াইয়ের জন্য সেনাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, কূটনৈতিক সমাধানের অংশ হিসেবে নিউ ইয়র্কে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, সাত দিনের মধ্যে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ, ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার, অবরুদ্ধ অর্থ ছাড় এবং তেল রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলে চুক্তির শেষ দিনে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করা হবে। এর পরই কেবল পারমাণবিক কর্মসূচিসহ অন্যান্য ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হতে পারে বলে তিনি জানান।
সূত্র: রয়টার্স