বাংলাদেশসহ ২০টি দেশ থেকে আমদানি করা নির্দিষ্ট বিশেষায়িত ওষুধ ও এর উপাদানে শুল্ক ছাড় দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এসব পণ্যে কোনও অ্যাড ভ্যালোরেম শুল্ক আরোপ করা হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ২ এপ্রিল পেটেন্টযুক্ত ওষুধ, বায়োলজিকস এবং সংশ্লিষ্ট উপাদান আমদানিতে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। দেশটির অভ্যন্তরে এসব পণ্যের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।
বিরল রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ, বন্ধ্যত্বের চিকিৎসার ওষুধ, কোষ ও জিন থেরাপি, অ্যান্টিবডি-ড্রাগ কনজুগেট (এডিসি) এবং প্রাণীর চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ এ শুল্ক ছাড়ের আওতায় রয়েছে। এসব ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত উপাদানও শূন্য শতাংশ শুল্কের আওতায় পড়বে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ফেডারেল রেজিস্টারে শুল্ক ছাড় পাওয়া দেশগুলোর তালিকা প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়াও রয়েছে ভারত, আর্জেন্টিনা, কম্বোডিয়া, ইকুয়েডর, এল সালভাদর, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, গুয়াতেমালা, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, জর্ডান, মালয়েশিয়া, উত্তর মেসিডোনিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, সুইজারল্যান্ড, লিশটেনস্টাইন, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, যুক্তরাজ্য ও ভিয়েতনাম।
ঘোষণা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট পেটেন্টযুক্ত ওষুধ ও সংশ্লিষ্ট উপাদানের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের কথা ছিল। তালিকাভুক্ত একটি গ্রুপের প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এটি ৩১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে এবং অন্যান্য আওতাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জেনেরিক ওষুধ ও সংশ্লিষ্ট উপাদান এ শুল্কের আওতামুক্ত থাকবে। একই সঙ্গে নতুন নোটিশে আগের ঘোষণার কয়েকটি সংশোধন করা হয়েছে।
নতুন সংজ্ঞায় পেটেন্টবিহীন প্রাণীর চিকিৎসায় ব্যবহৃত পণ্যকেও জেনেরিক ফার্মাসিউটিক্যাল আর্টিকেলের আওতায় রাখা হয়েছে। এছাড়া ফার্মাসিউটিক্যাল আর্টিকেল বলতে প্রস্তুত ওষুধ, এর সক্রিয় ফার্মাসিউটিক্যাল উপাদান এবং এসব উপাদান তৈরির গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক উপকরণকে বোঝানো হয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নোটিশ অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর যোগ্য পণ্য শূন্য শতাংশ শুল্ক সুবিধা পাবে। এসব দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান বা ভবিষ্যতে কার্যকর হতে যাওয়া বাণিজ্য ও নিরাপত্তা কাঠামো চুক্তি থাকার কারণেই এ ছাড় দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: দ্য হিন্দু