সব ঘাঁটি গুটিয়ে ইরাক ছাড়লো মার্কিন বাহিনী

ইরাকে থাকা অবশিষ্ট সামরিক ঘাঁটিগুলো থেকে সেনা প্রত্যাহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র. বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) এই সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন হয়।  মার্কিন সেনা চলে যাওয়ায় দেশটিতে নিরাপত্তা শূন্যতা তৈরি হতে পারে, ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো আরও শক্তিশালী হতে পারে এবং পুনরুত্থানশীল ইসলামিক স্টেট (আইএস) আবারও সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পেতে পারে— এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।  

তেহরান ও তার মিত্ররা যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রত্যাহারকে বিজয় হিসেবে দেখছে। ২০২৪ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে চুক্তি হয়েছিল। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলার মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করলো। প্রসঙ্গত ইরাকে প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে ইরানের যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে।

ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ঘটনা ঘটলো দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বাহিনীর আগ্রাসনের ২৩ বছর পর। ২০০৩ সালে ওই বাহিনী তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করে এবং শিয়া নেতৃত্বাধীন সরকার প্রতিষ্ঠা করে। কয়েক বছর ধরে বিদ্রোহ দমন অভিযান চালায় তারা। প্রথমে সাদ্দাম-সমর্থকদের বিরুদ্ধে এবং পরে আল-কায়েদার বিরুদ্ধে লড়াই করে মার্কিন বাহিনী। এরপর দেশটিতে ব্যাপক অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়, যার ধারাবাহিকতায় ইসলামিক স্টেট বা আইএসের উত্থান ঘটে।

২০১১ সালের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরাক থেকে সেনা প্রত্যাহার করে। তবে এর তিন বছরেরও কম সময়ের মধ্যে আবারও দেশটিতে ফিরে আসে তারা। ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত আইএসের বিরুদ্ধে বড় ধরনের যুদ্ধে ইরাকি বাহিনীকে সহায়তা করে মার্কিন সেনারা।‘অপারেশন ইরাকি ফ্রিডম’-এ আফগানিস্তানে একই সময়ে চলা যুদ্ধের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ মার্কিন নাগরিক নিহত হন। দুই দশকের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে ইরাকে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।

উল্লেখ্য ইরাকিদের মধ্যে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের প্রতি ব্যাপক সমর্থন রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশিক্ষণ ও অর্থায়ন পাওয়া দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী এখনও দেশকে সুরক্ষিত রাখতে সক্ষম কি না, তা নিয়ে অনেকে উদ্বিগ্ন। ইরাকের নিরাপত্তা বাহিনীকে পরামর্শ দেওয়া বিশ্লেষক জাসিম আল-বাহাদলি বলেন, গত দুই দশকের শিক্ষা হলো- নিরাপত্তা শূন্যতা অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে।

চলতি বছর ইরান-সংঘাতেও নিহত ১৮ মার্কিন সেনার মধ্যে সাতজন ইরাকে নিহত হয়েছেন। সর্বশেষ গত জুলাইয়ে এরবিলের কাছে একটি ঘাঁটিতে একটি ড্রোন ধ্বংস করার সময় এক মার্কিন সেনা সার্জেন্ট নিহত হন।